• Wednesday, 24 July 2024

অনলাইনে শিশু হয়রানি বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন

অনলাইনে শিশু হয়রানি বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন

প্রতিনিয়ত নানাভাবে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এ যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাঁচ্ছে না শিশুরাও। বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে অনলাইনে। যে শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাদের হাতে নির্মিত হবে আগামীর পৃথিবী, অথচ শিশুদের বেড়ে ওঠা যদি ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে হয়, যদি অনলাইনে যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির শিকার হয়- তবে তা শুধু ভয়াবহই নয় বরং অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ৩০ কোটি ২০ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন হেনস্তার শিকার হচ্ছে। শতকরা হিসেবে এই হার বিশ্বের মোট শিশুদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিশুদের অনলাইনে যৌন নির্যাতন বিষয়ক ওয়াচডগ সংস্থা চাইল্ডলাইটের যৌথ উদ্যেগে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ এ তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্নভাবে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদেরকে ফাঁদে ফেলে অনলাইনে যৌন আলাপে আসতে কিংবা নিজেদের খোলামেলা-রগরগে ছবি-ভিডিও শেয়ার করতে প্ররোচিত করে অপরাধীরা। এমনকি অনেক অপরাধী এসব ভিডিও গোপনে নিজের সংগ্রহে রেখে পরে সেগুলো দিয়ে শিশুদের বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইলও করে। এবং তার মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। সম্প্রতি অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও। অনলাইনে ৩৬ শতাংশের বেশি মেয়েশিশু বন্ধুদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ২৭ শতাংশের বেশি মেয়েশিশু পরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও আত্মীয় এবং ১৮ শতাংশ অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এই ধরনের অপরাধের প্রভাব এবং শিশুরা এর শিকার হতে থাকলে তার পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা আমলে নিতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। শিশুদের এই যৌন নিগ্রহ থেকে রক্ষা করতে সবার আগে অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারের বিপজ্জনক দিকগুলো সম্পর্কে শিশুদের সজাগ করতে হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের জন্য প্যারেন্টাল গাইড আছে, সেটা অনুসরণ করতে হবে। যথাসম্ভব শিশুদের বেশি সময় দিতে হবে, তাদের বেশি বেশি করে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে আইনের কার্যকর ব্যবহারের পাশাপাশি সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অভিভাবকদের শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যেন শিশুরা সবকিছু জানায়। শিশুরা যেন নিজেদের ছবি বা তথ্য অনলাইনে অন্য কাউকে না পাঠায়, তা নিয়ে শিশুদের বোঝানোর বিষয়ে মা-বাবাকে আরও সচেতন হতে হবে। যৌন নিপীড়ন নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচি বৃদ্ধি করা, সমাজের কাঠামোগত সংস্কার ও নারীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।

Comment / Reply From