• Wednesday, 24 July 2024

ইসরায়েলি উগ্র গোষ্ঠীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইসরায়েলি উগ্র গোষ্ঠীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইসরায়েলের একটি ‘সহিংস উগ্রপন্থী’গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় অনাহারে থাকা মানুষদের জন্য নিয়ে যাওয়া সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া এবং ত্রাণসামগ্রী নষ্ট করার অভিযোগে ইসরায়েলের ওই সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ জুন) তিসাভ নাইন নামের সংগঠনটির বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠনটির সম্পদ জব্দ করা হবে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জো বাইডেনের নির্বাহী আদেশের (ইও) আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পশ্চিম তীরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্টকারী ব্যক্তি ও সংস্থাকে শাস্তির আওতায় আনতে এই আইনি কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট যেন আরও খারাপ না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি কমাতে মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি।

ইসরায়েল ও পশ্চিম তীর হয়ে গাজা অভিমুখী ত্রাণবহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা ইসরায়েল সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

সম্প্রতি ইসরায়েলি পুলিশ কমিশনার কোবি শাবতাইকে উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় ত্রাণবহরকে সুরক্ষা দেওয়া থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। এর একদিন পরই কিসাভ নাইনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিল বাইডেনের প্রশাসন।

কয়েকমাস ধরে গাজায় ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিতে রাস্তাঘাট আটকে বিক্ষোভ করছিল ডানপন্থি ইসরায়েলিরা। সম্প্রতি তারা ত্রাণবহরের ওপর হামলাও চালিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীর হয়ে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত মাসে হেবরন হিলস এলাকায় দুটি ত্রাণবাহী ট্রাকে আগুন দিয়েছে তারা। এ হামলার জন্য তিসাভ নাইনকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিসাভ নাইনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে সুপারিশ করেছিল ডেমোক্রেসি ফর দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাও (ডিএডব্লিউএন)। এরকম আরও ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে বাইডেন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এ সময় ২৫০ জনকে জিম্মি করেন হামাস সদস্যরা।

এর প্রতিশোধ নিতে হামাসকে নির্মূল করার কথা বলে গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মাসের বেশি হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজার ২৩ লাখ মানুষের অধিকাংশই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

Comment / Reply From