ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৬:৩৮
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কোহলির ওপর গম্ভীরের ক্ষোভ


দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে অ-খেলোয়াড়সুলভ আচরণের কারণে বিরাট কোহলির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর। ডিন এলগারকে নট আউট দেওয়ার পর স্টাম্পের কাছে গিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন কোহলি, যা স্পষ্টই শোনা যায় স্টাম্প মাইকে।

জাসপ্রীত বুমরাহ এলগারকে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করলে রিভিউ নেন প্রোটিয়া দলপতি। রিভিউয়ে দেখা যায়, বল স্টাম্পের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। এরপর স্টাম্পের কাছে গিয়ে কোহলি বলেন, ‘দারুণ ডিআরএস, খুব ভালো খেলেছো। লোকেশ রাহুল বলেন, ‘গোটা দেশ ১১ জনের বিপক্ষে খেলছে।‘ অশ্বিন স্টাম্পের সামনে এসে মন্তব্য করেন, ‘সুপারস্পোর্টে জয়ের জন্য আরও ভালো উপায় খুঁজে বের করা উচিত ছিল।’ পরে কোহলি আবার বলেন, ‘তোমাদের দল যখন বল পালিশ করে, তখন তাদের ওপরেও ক্যামেরা তাক করো। শুধু বিপক্ষ খেলোয়াড়দের ওপর নয়।’

এই ঘটনা নিয়ে গম্ভীর বলেন, ‘খুব বাজে ঘটনা। স্ট্যাম্প মাইকের কাছে গিয়ে ওর (কোহলি) এরকম আচরণ এককথায় অপরিণত। একজন অধিনায়ক এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের থেকে এই আচরণ আশা করা যায় না। টেকনোলজি কারও হাতে নেই। লেগ সাইডে ক্যাচের আবেদনের সময় ডিন এলগার এই ধরনের আচরণ দেখায়নি।’

গম্ভীর আরও বলেন, ‘সবাই বলে বিরাট মনপ্রাণ দিয়ে খেলে। কিন্তু যাই হোক না কেন, এটা বাড়াবাড়ি করেছে। এভাবে আদর্শ ক্রিকেটার হওয়া যায় না। একজন ভারতীয় অধিনায়কের থেকে এই ধরনের আচরণ কোনও উঠতি ক্রিকেটার শিখতে চাইবে না। আশা করব রাহুল দ্রাবিড় এই বিষয়ে কোহলির সঙ্গে কথা বলবে। কারণ দ্রাবিড় যে ধরনের অধিনায়ক ছিল, তিনি নিজে কখনোই এরকম আচরণ করতেন না।’

এই টেস্টে আর জিততে পারেনি সফরকারী ভারত। ২১২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) ৭ উইকেটে জয় পেয়েছে প্রোটিয়া শিবির। এর ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল ডিন এলগার বাহিনী। তৃতীয় দিন শেষে জয়ের জন্য আর ১১১ রান দরকার ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ঠিক ২১২ রানই করে স্বাগতিক দল। দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে কিগান পিটারসেন ৮২, রসি ভ্যান ডার ডুসেন ৪১, টেম্বা বাভুমা ৩২ ও ডিন এলগার ৩০ রান করেন। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট পান জাসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি ও শার্দুল ঠাকুর।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে রিশভ পন্তের সেঞ্চুরিতে ১৯৮ রান করে ভারত। ওই ইনিংসে ভারতের হয়ে একাই লড়েন পন্ত। সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৫৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করা পন্তের সেঞ্চুরি তুলে নিতে লেগেছে ১৩৩ বল। তার অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছয়ের মার। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়ারা অলআউট হয় ২১০ রানে। জাসপ্রীত বুমরাহ নেন ৫ উইকেট। মোহাম্মদ শামি ও উমেশ যাদব দুজনেই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। প্রোটিয়াদের হয়ে কিগান পিটারসেন ৭২, টেম্বা বাভুমা ২৮, কেশভ মহারাজ ২৫ ও ভ্যান ডার ডুসেন ২১ রান করেন।

ভারত প্রথম ইনিংসে অলাআউট হয় ২২৩ রানে। দলীয় ৩১ রানে বিদায় নেন লোকেশ রাহুল। ৬ বলের ব্যবধানে ফিরে যান মায়াঙ্ক আগারওয়াল। যদিও এক প্রান্তে অধিনায়ক কোহলি ছিলেন অবিচল। ক্যারিয়ারের ২৮তম ফিফটি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু দলীয় ২১১ রানে রাবাদার বলে থামতে হয় ভারত অধিনায়ককে। ২০১৯ এর নভেম্বরের পর টেস্টে সর্বোচ্চ ৭৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। স্বাগতিকদের হয়ে ৪ উইকেট নেন রাবাদা। জানসেন নেন ৩ উইকেট।