ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৭:৪৭
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শাবিপ্রবিতে আল্টিমেটাম দিয়ে প্রভোস্ট কক্ষে তালা দিলেন ছাত্রীরা


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টদের পদত্যাগসহ তিনদফা দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রভোস্ট কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তারা হলে অবস্থান করছেন।

এর আগে, শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাত করতে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন আন্দোলনরত ছাত্রীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কাছে লিখিতভাবে তিনদফা দাবি তুলে ধরেন। উপাচার্য তাদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে একমাস সময় চান।

ঘণ্টাখানেক পর ছাত্রীদের প্রতিনিধি দল বাইরে অপেক্ষারত ছাত্রীদের বিষয়টি তুলে ধরলে তারা এ আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নিতে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছাত্রীদের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোবেদা কনক খানকে ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ছাত্রীরা হলে ফিরে প্রভোস্ট কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া দাবি মেনে নিতে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

ছাত্রীদের তিনদফা দাবির মধ্যে রয়েছে- হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজাসহ পুরো প্রভোস্ট কমিটিকে পদত্যাগ করতে হবে, অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা নির্মূল করতে হবে এবং হলের সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করে ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রভোস্ট কমিটি নিয়োগ দিতে হবে।

আন্দোলনরত ছাত্রীরা জানান, গতকাল রাতে উপাচার্যের আশ্বাসে তারা হলে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু আজ দুপুরে উপাচার্যের দেওয়া আশ্বাস সন্তুষ্টজনক নয়। তাই তারা উপাচার্যের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেন। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আন্দোলনরত ছাত্রীরা।

যদিও শিক্ষার্থীদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থী তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাদের অধিকার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।’

এসময় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের কোনো সিদ্ধান্তই শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বাইরে যাবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব হবে।’

বুধবার রাত ১২টা থেকে একই দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনে প্রবশের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন আন্দোলনরত ছাত্রীরা। যার সুরাহা এখনও হয়নি।