ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৬:৪৪
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সিলেটে দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন


সিলেটের জকিগঞ্জে সিল দেওয়া ব্যালট, মুড়ি বই, ব্যালট বাক্সের সিলগালা লক, নগদ টাকা, ফেনসিডিলের খালি বোতলসহ গ্রেফতারকৃত রিটার্নিং কর্মকর্তা শাদমান সাকীব ও আরিফুল হকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত সুমন চন্দ্র আদালতে দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঁচদিন করে রিমান্ড আবেদন করেছেন।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি ভোটের দিন বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে জকিগঞ্জের মরিচা ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সিল দেওয়া ও খালি ব্যালট পেপার মোট ১২শ, মুড়ি বই ৮টি, ব্যালট বাক্সের সিলগালা লক ৮টি, নগদ টাকা ১ লাখ সাড়ে ২১ হাজার, ফেনসিডিলের খালি বোতল, কালো রঙের ঢাকা মেট্রো-ঠ ১৩-৭০২৮ গাড়িসহ হাতেনাতে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শুক্কুর মাহমুদ মিয়ার হাতে ধরা পড়েন রিটার্নিং কর্মকর্তা শাদমান সাকীব ও আরিফুল হক। তাৎক্ষণিক কাজলসার ইউপি ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

এদিকে, সুলতানপুর ইউপির গণিপুর ভোটকেন্দ্রেও সিল মারা ব্যালট পেপার বাক্সে ভরার ঘটনায় উত্তেজিত ভোটাররা ওই কেন্দ্রের ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দিলে গণিপুর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণও স্থগিত করা হয়।

এ ঘটনায় দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মরিচা ভোটকেন্দ্রের ইনচার্জ জৈন্তা থানার এএসআই আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে স্থানীয় সরকার আইনে জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতারকৃত শাদমান সাকীব (৩২) উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও আরিফুল হক (৩৬) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। নির্বাচনে তারা দুজন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।

৬ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা শাদমান সাকীবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফুল হক থানা হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শাদমান সাকীব কারাগারে ও আরিফুল হক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরাজিত চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের অভিযোগ, এই দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা বড় অঙ্কের টাকা গ্রহণ করে অনেক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রতিটি ইউপির প্রার্থীদেরকে ডেকে নিয়ে বড় অঙ্কের টাকা চুক্তি করেছিলেন। সেই চুক্তিমতো দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোট জালিয়াতি করেন ভোটের সারাদিন। শেষ পর্যন্ত বিকেলে ধরা পড়েন।

পরাজিত প্রার্থীরা বিতর্কিত এ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে ইতিমধ্যে সিলেটে ও ঢাকায় পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ইসির কাছেও লিখিত দিয়েছেন। প্রভাবমূলক কাস্টিং ভোটের ফলাফলের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলেও আভাস দিয়েছেন।