ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৬:৩২
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পুরান ঢাকার ছাদগুলোতে সাকরাইনের আনন্দ


৫২ বাজার আর ৫৩ গলির পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এক অনুষ্ঠান সাকরাইন। এই শব্দটি সংস্কৃত শব্দ সংক্রাণ থেকে এসেছে যার আভিধানিক অর্থ বিশেষ মুহূর্ত। এই উৎসবটি ঘুড়ি উৎসব, পৌষ সংক্রান্ত এবং মকর সংক্রান্ত নামেও অনেকের কাছে পরিচিত।

মোঘল আমলে ১৭৪০ সালের এই দিনে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের সময় ঘুড়ি উড়ানো হয়। সেই দিনটিকে কেন্দ্র করেই বর্তমানের এই দিনটিতে এটি একটি উৎসব আমেজের রূপ নিয়েছে।

 

পৌষ মাসের শেষের দিনে হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব আর নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের সময় ঘুড়ি উড়ানোর স্মৃতি একই দিনে হওয়ায় পুরান ঢাকাবাসী ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদ না রেখে একযোগে সকলে মিলে উৎসবটি পালন করে। তাই এই অনুষ্ঠানটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল উদাহরন হতে পারে বলে পুরান ঢাকাবাসীরা মনে করে।

প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারির এই দিনেই নানা আয়োজনে মেতে উঠে পুরান ঢাকার প্রতিটি ছাদ। সকাল ৭টার মধ্যেই সবাই নানা রঙের ঘুড়ি ওড়াতে বাড়ির ছাদে ছাদে ভিড় জমায়। সারাদিন গান বাজনা আর মজার খাবারের আয়োজন থাকলেও সন্ধ্যার পরপরই এই উৎসবের মূল আকর্ষণ শুরু হতে থাকে।

প্রতিটি ছাদের জমকালো আলোকসজ্জা, আগুন নিয়ে খেলা, বর্ণিল আতশ বাজি আর ফানুস দেখতে অন্য স্থানের ঢাকাবাসীরাও এইদিন পুরান ঢাকায় চলে আসে। তবে অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনা এঁড়াতে এবারে আতশবাজি আর ফানুসে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও উৎসবের আনন্দের কমতি নেই ঢাকাইয়াবাসীদের।