ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৭:০৮
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে টমেটো চাষিদের মুখে হাসি


গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছেন জামালপুরের চরাঞ্চলের টমেটো চাষিরা। এ বছর শুরু থেকেই টমেটোর ফলন বেশি, দামও দ্বিগুণ পেয়ে খুশি কৃষকরা।

প্রথম দিকে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৭ শ’ থেকে ১৮ শ’ টাকায়। বর্তমান বাজার দর ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ।

জেলা কৃষি অফিস বলছে, খরচ কম লাভ বেশি পাওয়ায় দিন দিন এই অঞ্চলে টমেটো চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

জামালপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল শরিফপুর, তুলশীচর, বারুয়ামারি, টিকরাকান্দি, নরুন্দি, নান্দিনায় এ বছর টমেটোর চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর টমেটোর ফলন ভালো এবং দামও দ্বিগুণ।

কৃষকরা জানিয়েছেন, গত বছর টমেটো চাষ করে তারা লোকসানে পড়েছিলেন। এ বছর তাদের সেই ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছেন। শুরুতেই প্রতি মণ টমেটো বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। বর্তমান বাজারও ভালো ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে টমেটো আবাদে তাদের খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সেখানে বিক্রি করেছেন ২ থেকে ৩ লাখ টাকায়। যা লাভের অংশের দ্বিগুণ।

এ বছর চরাঞ্চলে বারী, বিউটিফুল, বিউটিফুল-২, বিউটিফুল-৩, এবং বিউটিফুল প্লাস জাতের টমেটো চাষ করা হয়েছে। ফলে জেলায় বেশি সুস্বাদু আর বড় বড় আকারের টমেটো পাওয়া গেছে। এতে বাজারে এর চাহিদা বেশি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে টমেটো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুরসহ বিভিন্নস্থান থেকে পাইকাররা এ অঞ্চলের টমেটো নিয়ে যাচ্ছেন।

কাওরান বাজারের পাইকার মোতালেব হোসেন বলেন, প্রতি বছর এই অঞ্চলের টমেটো পাইকারি কিনে নিয়ে যাই। এখানকার টমেটো ভালো। সুস্বাদু, রং, সাইজের কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তাই দেশের অন্য জেলার চেয়ে এই টমেটো নিতে বেশি আগ্রহী। গত বছর টমেটো চাষে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। এতে কৃষকরা টমেটো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিল। অনেকের ঘরে আবাদের খরচই তুলতে পারেনি। এ বছর টমেটোর ফলন বেশি পাওয়ায় গত বছরের ক্ষতিও পুষিয়েছেন বলে জানান তিনি।

চরযথার্থপুর এলাকার টমেটো চাষি সাজু মিয়া বলেন, এ বছর শুরুতেই লাভ পেয়েছি। প্রতিটি গাছে জোয়ার ঠিক ছিল, ফলন ঝড়ে পড়ে নাই। টমেটোর সাইজ বড় বড়। প্রতি বিঘায় ৮০ থেকে ৮৫ মণ টমেটো তুলেছি। প্রতি মণ ১৭ থেকে ১৮ শ’ টাকায় শুরুতেই বিক্রি করেছি। এতে খরচের দ্বিগুণ টাকা লাভ করেছি। এখনো ক্ষেতে যা আছে তাতে আরও বেশি লাভবান হবো।

 

একই কথা বলছেন অপর টমেটো চাষি শহীদুল, হনু মিয়া ও সালাম। অপর চাষি গেন্দু মিয়া বলেন, গত বছর উদয়ন আর সফল জাতের টমেটো করেছিলাম। তাতে প্রতিটি বাগানের অবস্থা খারাপ ছিল। পাতা কুঁকড়া হয়ে গাছ মরে গেছে। এ বছর বিউটিফুল জাতের টমেটো আবাদ করেছি। গত বছরের চেয়ে এ বছর গাছে ভালো ফলন বেশি হয়েছে।

জামালপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াছমিন বলেন, এ বছর জামালপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলে ১১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। এ টমেটো আবাদ করে কৃষকরা খুবই খুশি। কারণ এ বছর ফলন বেশি এবং বাজারে দামও বেশি।

তিনি আরও জানান, কৃষকরা প্রতি হেক্টরে ৮০ থেকে ৮৫ মেট্রিক টন ফলন পেয়েছে। টমেটো আবাদে অল্প ব্যয়ে লাভ বেশি এজন্য কৃষকদের মধ্যে টমেটো চাষে দিন দিন আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।