ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৬:৩৭
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নিরপরাধ তরুণ-তরুণীর মৃত্যুতে দায়ী মাদক ব্যবসায়ীরা : হাইকোর্ট


মাদক ব্যবসায়ীদের জঞ্জাল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি ও ক্ষতিকর, বলেছেন হাইকোর্ট।

এক আদেশে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অসংখ্য নিরপরাধ তরুণ-তরুণী তথা ছেলেমেয়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আদালত।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা এক মামলার আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দেওয়া এক পূর্ণাঙ্গ আদেশে এমন অভিমত দেন আদালত। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল গত বছর (২০২১ সাল) ১৩ ডিসেম্বর ওই আদেশ দেন।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ আদেশে এই অভিমত দেন হাইকোর্ট।

 

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, একই বছর ৫ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জের আবদুল মার্কেট এলাকা থেকে সোহেল নামের এক ব্যক্তিকে ১০০ ইয়াবাসহ আটক করা হয়। ওই দিনই কালীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সোহেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ মামলায় গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর সোহেলের জামিন নামঞ্জুর করেন গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে গাজীপুরের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে সোহেল আবেদন করেন, যা গত বছরের ২১ অক্টোবর খারিজ হয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি বিবিধ আবেদন করে জামিন চান সোহেল।

সোহেলের করা আবেদেনের উপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৪ নভেম্বর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিভক্ত আদেশ দেন।

দ্বৈত বেঞ্চে নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী রুল দিয়ে সোহেলের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে বেঞ্চের অপর বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী অন্তবর্তীকালীন জামিন না দিয়ে জামিন প্রশ্নে রুল দেন। দ্বিধাবিভক্ত আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক বেঞ্চে পাঠান। তিনি শুনানি নিয়ে সোহেলের জামিনের প্রার্থনা নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, অসংখ্য নিরপরাধ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ-তরুণী ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকে আসক্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে ধাবিত হচ্ছেন। আদালত কখনোই সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা ব্যক্তির পক্ষে যেতে পারেন না। আদালত কখনোই অসংখ্য নিরপরাধ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ–তরুণীদের মৃত্যুর কারণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের পক্ষে যাবেন না।