ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৭:৫২
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভারতে সভা ডেকে মুসলমানদের গণহত্যা চালাতে উসকানি (ভিডিও)


দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর ‘জাতিগত নিধন’ চালাতে আহ্বান জানিয়েছে ভারতের উগ্র-ডানপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠীর নেতারা। এতে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ২০ কোটি মুসলমানকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।

সম্প্রতি হিন্দুসভা নেতা ইয়াতি নরসিংয়ানন্দ ধর্ম সংসদ নামের তিন দিনের একটি ‘ঘৃণা প্রচারের সমাগমের’ আয়োজন করেছিলেন। দ্য কুইন্টের খবর বলছে, উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার শহরে গেল ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর এই সমাবেশ হয়েছে। এতে সংখ্যালঘুদের হত্যা ও তাদের ধর্মীয় স্থানে হামলার আহ্বান জানানো হয়েছে।-খবর এনডিটিভি, দ্য প্রিন্ট, ডন অনলাইনের।

নরসিংয়ানন্দ বলেন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বয়কট কাজ করছে না। হিন্দুগোষ্ঠীগুলোর উচিত নিজেদের আরও হালনাগাদ করা। তরবারি কেবল মঞ্চেই ভালো দেখায়। যাদের হাতে ভালো অস্ত্র আছে, এই যুদ্ধে তারাই জয়ী হবেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

 

গেল অক্টোবরে দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য নরসিংয়ানন্দকে দায়ী করা হয়েছে।

হিন্দু রক্ষা সেনার সভাপতি স্বামী প্রাবোধানন্দ বলেন, মিয়ানমারের মতো আমাদের পুলিশ, রাজনীতিবিদ, সামরিক বাহিনী ও প্রতিটি হিন্দুকে অবশ্যই অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে। এরপর নিধনযজ্ঞ চালাতে হবে। এর বাইরে আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট নেই।

আর রাজনৈতিক দল হিন্দু মহাসভার মহাসচিব সাদ্বী অন্নপূর্ণাও লোকজনকে অস্ত্র হাতে নিয়ে গণহত্যা চালাতে উৎসাহিত করেন।

তিনি বলেন, অস্ত্র ছাড়া কোনো কিছু সম্ভব না। আপনি যদি তাদের জনসংখ্যাকে উৎখাত করতে চান, তবে তাদের হত্যা করুন। হত্যা করে কারাগারে যেতে প্রস্তুত হন। এমনকি যদি আমাদের ১০০ জন তাদের (মুসলমান) ২০ লাখ লোককে হত্যায় প্রস্তুত থাকেন, তবে আমরা বিজয়ী হব। তারপর আপনারা কারাগারে যান।

এরপর মুসলমান দোকানিদের সঙ্গে কীভাবে খারাপ আচরণ করতে হবে, সেই পরামর্শ দেন ধর্মীয় নেতা স্বামী আনন্দস্বরূপ। উদহারণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সড়কে প্রতিদিন সকালে বড় দাড়িওয়ালা মোল্লা দেখতাম, এখন তারা জাফরান দাড়ি রাখেন। হরিদ্বার, মহারাজে কোনো মুসলমান ক্রেতা নেই। কাজেই তাদের বয়কট করুন।

দ্য উইয়ারের খবর বলছে, তিন দিনের এই সভায় দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় ও বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী উদিতা তায়াগিও উপস্থিত ছিলেন। তারাও এতে উসকানিমূলক বক্তৃতা দিয়েছেন।

পরবর্তীতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অশ্বিনী উপাধ্যায় বলেন, একটি ছিল তিন দিনের সভা। সেখানে একদিন আমি উপস্থিত ছিলাম। মঞ্চে আমি আধঘণ্টার জন্য উপস্থিত থেকে সংবিধান নিয়ে কথা বলেছি। আমার আগে-পরে কারা কী বলেছেন, তা আমার জানা নেই। সেই দায়ও আমি নিতে পারব না।

তবে সামাজিকমাধ্যমে ওই বৈঠকের ভিডিও ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পক্ষ থেকে সমালোচনাও করা হচ্ছে। এনডিটিভির খবর বলছে, এ ঘটনার বেশ কয়েকদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও একটি এজাহার পর্যন্ত দাখিল করা হয়নি।

এনডিটিভিকে হিন্দুরক্ষা সেনার প্রবোধানন্দ বলেন, আমি যা বলেছি, তাতে লজ্জার কিছু নেই। আমি পুলিশকে ভয় পাই না। নিজের বক্তব্যের পক্ষেই আমি অবস্থান নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আপনার চিন্তাভাবনার সঙ্গে আমাদের ফারাক আছে। সংবিধান পড়ুন। আমার বক্তব্য উসকানিমূলক না। যদি কেউ আমাকে হত্যা করতে চায়, তবে আমি প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমি আইনকে ডরাই না।