ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৭:৩৫
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সতর্ক হতে হবে করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট সম্পর্কে


বৈশ্বয়িক মরনব্যাধি করোনা ভাইরাসের নতুন নতুন ভেরিয়েন্টের কারণে বিশ্ব আবারো অস্থির হয়ে উঠেছে। সামগ্রিক ভাবে সারা বিশে^ই করোনার প্রকোপ কমলেও নতুন ভেরিয়েন্ট ১১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করা শুরু করেছে। সতর্কতা হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে যোগাযোগ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন ভেরিয়েন্ট ৯ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ভেরিয়েন্টের নাম দিয়েছে ‘ওসিক্রন’।
গত বছর অক্টোবর মাসে ভারতে নতুন একটি ভেরিয়েন্ট ডেল্টা শনাক্ত হয়েছিল। যা অতি দ্রুত বিশে^র বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও প্রথম এ ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয় ভারত ফেরত একজনের দেহে। এ বছরের ৮ মে শনাক্ত হওয়া এ ভেরিয়েন্ট অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘ওসিক্রন’ ডেল্টার চাইতেও বেশি সংক্রমণ। এ পর্যন্ত আফ্রিকার ছ’টি দেশ সহ হংকং, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ইসরাইলে করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, সংক্রমণ প্রতিরোধে ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশ আফ্রিকার সাথে যোগাযোগ স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই ব্যবস্থা নিয়েছে জাপান ও সিঙ্গাপুর।
করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট ‘ওসিক্রন’ সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে চারটি পরামর্শ দিয়েছে, তা হলো: নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি নতুন ধরনটি সম্পর্কে জানতে জিন বিশ্লেষণ করতে হবে, পূর্নাঙ্গ জিন বিশ্লেষণের তথ্য সর্ব সাধারণের জানার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে, নতুন রোগী সনাক্ত হলে বা সংক্রমণ গুচ্ছ আকার ধারণ করলে তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানাতে হবে এবং নতুন ধরনের তীব্রতা, রোগ নির্ণয় পদ্ধতিসহ বিদ্যমান জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক উদ্যোগের কার্যকরিতা বোঝার জন্য কাজে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের খবর আসে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। দীর্ঘ লক-ডাউন আর স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাসহ টিকাদানের মাধ্যমে এখন সংক্রমণের মাত্রা কমেছে। কিন্তু নতুন ভেরিয়েন্ট ‘ওসিক্রন’ সংক্রমণ ছড়াবার খবরে এখনই সচেতন না হলে মারাত্মক দুর্যোগে পড়তে হবে। কাজেই পয়েন্ট অফ এন্ট্রি বা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ঢোকার পথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন (সঙ্গ-নিরোধ), আইসোলেশন (বিচ্ছিন্নকরণ) ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। টিকা গ্রহণে সবাইকে আগ্রহী করতে হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাও উন্নত করতে হবে। নতুন ভেরিয়েন্ট আসার পর তোড়জোড় না করে আগে ভাগেই স্বাস্থ্য বিভাগকে মাঠে নামতে হবে। কার্যকর করতে হবে পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটি ও রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটিকে।