ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৩:২০
বাংলা বাংলা English English

মঙ্গলবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে আবারও বন্যহাতির মৃতদেহ উদ্ধার


শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত থেকে ফের একটি বন্যহাতির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) সকালে পানিহাতা গ্রামের ফেকামারির পাহাড়ঘেরা একটি সমতল ভূমি থেকে বন্যহাতির মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ৯ নভেম্বর শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন গারো পাহাড় এলাকায় বিদ্যুতের ফাঁদ পেতে একটি হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে শ্রীবরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও বিদ্যুতের ফাঁদে হাতি মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণিত হলে ১১ নভেম্বর চারজনের নামে মামলা করেন শ্রীবরদী রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত বছরও শ্রীবরদী উপজেলার খাড়ামোড়া সীমান্তে একটি হাতি বিদ্যুতের ফাঁদ হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২১ সালের এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৭৩টি হাতি মারা গেছে। শুধু ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত শুধু শেরপুরে ২৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই বিদ্যুতের ফাঁদ পেতে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এসব হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বন বিভাগ।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৬ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত ছয় দিনের ব্যবধানে চারটি বন্যহাতি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তিনটি ও শেরপুরে একটি হাতি হত্যা করা হয়েছে। এভাবে একের পর এক হাতি হত্যার ঘটনা প্রাণীটির বিলুপ্তির আলামত হিসেবেই দেখছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, ২০১৬ সালে বন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) জরিপে সারাদেশে ২৬৮টি বন্যহাতি পাওয়া গিয়েছে। আইইউসিএন এর রেড লিস্ট-২০১৫ গ্রন্থে প্রাণীটিকে মহাবিপন্ন (Critically Endangered) বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি হাতি হত্যা করলে এটা জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২ বছর ও সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।