ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ১১:৩৯
বাংলা বাংলা English English

গভীর রাতে কান্নার শব্দ: অবশেষে সড়কের পাশে মিলল নবজাতক

রাত ১১টা, গ্রামীণ পরিবেশে ছিল সুনশান নিরবতা। তারই মাঝে হঠাৎ নবজাতকের চিৎকার-কান্না। কিছুক্ষণ থেমে থেমে ভেসে আসতে থাকে শিশুর কান্নার শব্দ। রাস্তার কাছাকাছি বাড়ি মোঃ লাভলু মিয়ার। কান্নার উৎস খুঁজতে তারা বের হয়ে আসেন রাস্তায়। অবশেষে মুঠোফোনের আলোয় মিললো এক ফুটফুটে নবজাতক মেয়ে। মাটিতে গড়াগড়ি করছিল শিশুটি, গায়ে ছিল না কোন কাপড়। শরীরের রক্তের দাগ। তখনও পড়েনি শিশুটির নাভী। মুহুর্তেই কোলে তুলে নেন লাভলুর স্ত্রী বাসনা
আক্তার। বাড়ি নিয়ে কাপড়ে জড়িয়ে মুখে দেন গাভীর দুধ।

পরম মমতায় মাতৃস্নেহে বুকে জড়িয়ে কাটান রাত। শিশুটির নাম রাখে এলাকাবাসী বিলকিছ। হদিস মেলেনি তার পিতামাতার। ঘটনাটি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুটিয়াজানী গ্রামে। মঙ্গলবার দুপুরে খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ওয়াদিয়া শাবাব, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব, তদন্ত অফিসার (ওসি) মোহাব্বত খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই মেয়ে নবজাতককে লাভলুর বাড়ি
থেকে উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বাসনা আক্তারের শ্বাশুড়ী প্রবীণ লাইলী বেগম বলেন, সোমবার রাতে তার স্বামী নদী থেকে মাছ ধরে আনেন। দিবাগত রাত ১১টার তিনি নিজ বাড়ির টিউবওয়েলের পাশে মাছ ধোয়ার সময় শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান।

পরে তার স্বামীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে দেখতে পান রাস্তায় মাটিতে শুয়ে কাঁদছিল ওই শিশুটি। নবজাতককে দেখে মনে হয়েছে কয়েক ঘন্টা পূর্বে তার জন্ম হয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয় ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাহেলা ও বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মেম্বার নাছিমা আক্তার মল্লিকা প্রশাসনকে খবর দেয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাসনা আক্তার (৩৩) বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করার পর থেকে সারা রাত আমার বুকে ছিল। হাসপাতালে আনার পর থেকে আমার কাছেই রয়েছে। আমার কোন মেয়ে নেই। এই মেয়েটিকে আমার মেয়ে হিসেবে মানুষ করতে চাই। ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, গত রাত ১১ টার দিকে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা গিয়ে শিশুটিকে ঘিওর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। এই শিশুর অভিভাবকদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুটিকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছি বলে জানান ওসি রিয়াজ। ঘিওর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসিব আহসান জানান, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। তবে আরো নিবীড়
পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হবে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ওয়াদিয়া শাবাব জানান, শিশুটিকে হাসপাতে ভর্তি করে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা ও
সুরক্ষায় সমাজ সেবা কর্মকর্তা, হাসপাতালের চিকিৎসক ও পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠার পর এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।