ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ১১:৩৫
বাংলা বাংলা English English

চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে যা করবেন

বর্তমান সময়ে চুলের আগা ফাটা সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। চুলে মাত্রাতিরিক্ত শ্যাম্পুর ব্যবহার, অনিয়মিত আঁচড়ানো, পুষ্টিহীনতা, হেয়ার কালার করা এবং বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালযুক্ত জেল ব্যবহারের ফলে চুলের আগা ফাটা সমস্যা দেখা দেয়। চুলের আগা ফেটে গেলে চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। চুল আর লম্বা হয় না এবং কাপড়ের আঁশ ওটার মতো দেখায়।

অনেকেরই অভিযোগ, যেভাবেই যত্ন নেওয়া হোক না কেন, কিছুদিন পর ঠিক ফিরে আসে এ সমস্যা। পাশাপাশি এ সময় চুল দেখতে শুষ্ক, নির্জীব ও রুক্ষ লাগে এবং চুলের বৃদ্ধিও থেমে যায়। অনেকে প্রাথমিক সমাধান হিসেবে চুল ট্রিম করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু কিছুদিন পরই আবার তা ফিরে আসে। যাদের সমস্যা প্রকট, তাদের ক্ষেত্রে কন্ডিশনার, হেয়ার সিরাম ব্যবহার করেও লাভ হয় না। ঠিকভাবে যত্ন নিলে চুলের আগা ফাটা সমস্যা আর ফিরে আসবে না। এই সমস্যার মূল কারণ অপুষ্টি এবং অযত্ন। প্রথমে এই দুটি বিষয়ে সচেতন হলে চুলরে আগা ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে এবং প্রাকৃতিক অনেক উপাদানই চুলের আগা ফাটা সমাধানে কার্যকরী। নিয়মিত যত্ন এবং সঠিক খাওয়াদাওয়া সহজেই এই সমস্যাকে কাবু করতে পারে। কিছু সাধারণ যত্ন ও ঘরে তৈরি হেয়ার মাস্কও হতে পারে সমাধান।

প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন উপাদান এর মিশ্রণের সাহায্যে তৈরি হেয়ার প্যাক ব্যাবহার করে চুলের আগা ফাটা রোধ করা সম্ভব । নিম্নে কার্যকরী হেয়ার প্যাক সম্পর্কে তুলে ধরা হলো:
জবা ফুলের হেয়ার প্যাক:
চুলের যত্নে জবা ফুল অত্যন্ত কার্যকরি, চুলের আগা ফাটা রোধ করে চুলকে দীর্ঘ ঘন মজবুত এবং ঝলমলে করতে জবাফুলের হেয়ার প্যাক খুবই উপকারি।
উপকরণ সমুহ:
জবা ফুল।
আধা কাপ নারিকেল তেল।
সাথে রাখুন সতেজ নিমপাতা।
হেয়ার প্যাক তৈরির প্রক্রিয়া:
প্রথমেই একটি পাত্রে নারিকেল তেল হালকা আঁচে গরম করে নিন।
এবার তেলের উপর জবা ফুল এবং নিম পাতা দিয়ে দিন।
৭ থেকে ১০ মিনিট ভালোভাবে হালকা আঁচে গরম করে নিন।
এরপর পাত্রটিকে নামিয়ে রেখে মিশ্রণটি ঠান্ডা হওয়ার সময় দিন।
মিশ্রণ থেকে তেল ছেঁকে নিয়ে জারে সংরক্ষণ করুন।
তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে চুলের আগা ফাটা রোধ করতে অত্যন্ত কার্যকরি একটি হেয়ার প্যাক।
চুলে হেয়ার প্যাক টি ব্যবহার পদ্ধতি:
আগা ফাটা রোধ করার জন্য প্রথমেই চুলের যে অংশ থেকে আগা ফেটেছে সে বরাবর কেটে নিতে হবে।
এরপর হেয়ার ব্রাশ এর সাহায্যে সম্পূর্ণ চুলে, চুলের গোড়ায়, মাথার স্কাল্পে ভালোভাবে প্যাক টি লাগিয়ে নিতে হবে।
বড় দাঁত ওয়ালা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিতে হবে।
এবার শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন অথবা পরিষ্কার তাওয়েল দিয়ে চুল সমেত মাথা বেঁধে নিন।
৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ভার্জিন শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার চুলের আগা ফাটা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে।
এ হেয়ার প্যাক সমূহ নিয়মিত ব্যবহারে আপনার চুলের আগা ফাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে। তাই স্থায়ীভাবে চুলের আগা ফাটা রোধ করে দীর্ঘ, লম্ব, ঘন ও মজবুত চুলের অধিকারী হওয়ার জন্য সপ্তাহে অন্তত দুবার হেয়ার প্যাকটি ব্যবহার করতে হবে।
হট অয়েল ট্রিটমেন্ট:
চুলের যেকোনো সমস্য প্রতিরোধের প্রাথমিক এবং সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে হট অয়েল ট্রিটমেন্ট। অতীতেও চুলে তেলের ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে অলিভ অয়েল অথবা নারকেল তেল গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে হবে। পাশাপশি চুলের ডগাতেও তেল লাগাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চুলের গোড়া থেকে আগার দিকে তেল মালিশ করবে। খুব জোরে ঘষলে চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্তত এক ঘণ্টা চুলে তেল লাগিয়ে রাখা উচিত। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।
কলা:
চুলের যেকোনো সমস্যায় কলা দারুণ কার্যকর। আবার কলাকে বলা হয় প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। পাশাপাশি এটি চুলের ইলাস্টিসিটি বাড়ায় এবং চুল পড়া রোধ করে। কলা চটকে সরাসরি চুলে লাগানো যেতে পারে। আবার কলা, মধু ও টক দইয়ের পেস্টও ব্যবহার করা যায়।
মরোক্কান অয়েল
চুল নরম ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে এই তেল দারুণ কার্যকর। এটি চুলের ড্যামেজ কমাতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই, ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬-ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা চুলের জন্য প্রয়োজনীয়। যা চুলের গোড়া মজবুত করে। শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের পর চুলে তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন, যাতে অতিরিক্ত জল শুষে নেয়। অল্প মরোক্কান অয়েল হাতে নিয়ে ভিজে চুলের মাঝামাঝি থেকে ডগা অবধি ম্যাসাজ করুন। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর এভাবে মরোক্কান অয়েল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
মধু
প্রাকৃতিক গুণে সমৃদ্ধ মধু চুলের আগা ফাটা রোধ করে। টক দই ও মধু মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে, মিশ্রণটি চুলের ডগায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।
আর্গান অয়েল:
এটি ‘লিক্যুইড গোল্ড’ নামেও পরিচিত। আর্গান বীজ থেকে এই তেল তৈরি করা হয়। ভিটামিন ই, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ আর্গান অয়েলও চুলের আগা ফাটা রোধ করে। শ্যাম্পু করার পর ভিজে চুলে আর্গান অয়েল লাগালে তা বেশি কার্যকর। যারা ঘন ঘন চুলে হিটিং টুলস বা স্টাইলিং পণ্য যেমন মুজ, জেল বা স্প্রে ব্যবহার করেন, তারা যদি এসব পণ্য ব্যবহার করার আগে বা পরে আর্গান অয়েল ব্যবহার করেন, তাহলে চুলের কম ক্ষতি হয়।
কোকোনাট মিল্ক মাস্ক
কিছু পরিমাণ টাটকা নারকেলের দুধ নিয়ে পুরো মাথার তালুতে এবং চুলের ডগায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতে হবে। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে নিন।
অ্যাভোকাডো প্রোটিন মাস্ক
একটা অ্যাভোকাডো দিয়ে পেস্ট তৈরি করে, এর সঙ্গে একটা ডিম ফেটিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর এতে এমনভাবে অলিভ অয়েল মেশাতে হবে, যাতে এটি কন্ডিশনারের মতো ঘন হয়। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ১০-২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।