ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১২:৪৩
বাংলা বাংলা English English

নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির শীর্ষনেতারা

দুই বছর পর আবারও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির শীর্ষনেতারা। এর আগে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে বৈঠকে বসেছিলেন বিএনপি নেতারা।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টম্বর) বিকেল ৪টার দিকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী এ বৈঠকের প্রথম দিনের কার্যক্রমের শুরু হয়েছে।

বৈঠকে ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কাউন্সিল ও ৩২ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন অংশগ্রহণ করেছেন। এতে সভাপতিত্ব করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

বৈঠকে অংশ নিতে এদিন দুপুর ২টা থেকে একে-একে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও এসেছেন বৈঠকে অংশ নিতে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বৈঠকে এসে নেতারা একে-অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন।

বিএনপির নেতারা বলছেন, অনেকদিন পর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় সরগরম হয়ে উঠেছে। বৈঠককে কেন্দ্র করে দলীয় পতাকা উত্তোলন হয়েছে। পরিপাটি করে গোছানো হয়েছে পুরো কার্যালয়। ভবনের নিচতলার হলরুমে নেতাদের সাদা কাপড়ে মোড়ানো আসন দেওয়া হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো মঞ্চের সারিতে বসেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। স্ক্রিনে অনলাইনে যুক্ত রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

দলীয় নেতারা জানান, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বস্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনৈতিক কৌশল ও নীতি চূড়ান্ত করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে আগামী দিনের কৌশল নিয়ে নেতারা মন খুলে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা অনুযায়ী আজকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে তিনদিন বৈঠক হবে।

চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে অনেক সদস্যই অংশগ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন কেউ কেউ। তাদের স্মরণে বৈঠকের শুরুতেই শোক জানানো হয়।

তিনি আরও জানান, আজকের পর আগামীকাল বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক, সহ-সম্পাদক এবং বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয়সূত্র জানায়, বৈঠকে ৭৩ জন উপদেষ্টা ও ৩৫ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে মধ্যে কেউ-কেউ দলীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। কেউ অন্য দলে যোগ দিয়েছেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান এখনও উপস্থিত হননি। বাকীদের মধ্যে ২০১৫ সালের ১১ মে থেকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। দল থেকে পদত্যাগ করেছেন মাহবুবুর রহমান। প্রয়াত হয়েছেন- ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ। অসুস্থ হয়ে শয্যাশয়ী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

৩৫ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্থায়ী কমিটিতে নিযুক্ত হয়েছেন। অন্য সদস্যদের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর ইনাম আহমেদ চৌধুরী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে দল থেকে পদত্যাগ করে বিদেশে রয়েছেন এম মোরশেদ খান। মোসাদ্দেক আলী ফালু রয়েছেন দেশের বাইরে। বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে পলাতক রয়েছেন শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আবদুস সালাম পিন্টু। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। মারা গেছেন- সাদেক হোসেন খোকা, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ব্যারিস্টার আমিনুল হক।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে উপস্থিত আছেন, শামসুজ্জামান দুদু, মীর নাসির, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুল হাসান, অধ্যাপক শাজাহান মিয়া, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, শাহজাহান উমর ও আবদুল আউয়াল মিন্টু।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন- নাজমুল হক নান্নু, আবদুল হাই শিকদার, ভিপি জয়নাল, শাহজাদা মিয়া, মাহবুব তালুকদার, আতাউর রহমান ঢালী, মশিউর রহমান, শাহিদা রফিক, শামসুল হক, গোলাম আকবর খন্দকার, ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস, সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ূম, ইসমাঈল জবিউল্লাহ, আমান উল্লাহ আমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, এসএম ফজলুল হক, সুকোমল বড়ুয়া, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, একরামুজ্জামান, তৈমুর আলম খন্দকার, ফজলুর রহমান, মনিরুল হক চৌধুরী, আবদুল লতিফ, মিজানুর রহমান মিনু।

উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রয়াত হয়েছেন- হারুনর রশীদ খান মুন্নু, ফজলুর রহমান পটল, ফজলুল হক আসপিয়া (সুনামগঞ্জ), কাজী আসাদ ও সঞ্জীব চৌধুরী।