ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১:০৩
বাংলা বাংলা English English

বরিশালে চাচা ও ফুফুর বিরুদ্বে ভাতিজিকে যৌনতায় বাধ্য করার অভিযোগ

* আট মাস ধরে আটকে রেখে নির্যাতন
* জোর করে যৌনকর্ম করিয়ে টাকা উপার্জন
* ২ লাখ টাকায় পতিতালয়ে বিক্রি করার অভিযোগ

বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়নের নরকাঠী গ্রামের এক অসহায় তরুনীকে আটকে রেখে জোর করে যৌনকর্ম করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানাগেছে অসহায় তরুনীর আপন ছোট চাচা, ফুফু ও ফুফা চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঢাকার সনিরআখরায় একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে আপন চাচা ও ফুফু-ফুফার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সেই তরুণী (১৮)। গতোকাল সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বরিশালের বন্দর (সাহেবের হাট) থানায় এ মামলা করেন তিনি। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ওই তরুণীর চাচা নরকাঠী-লাহারহাট গ্রামের মটর বাইক ড্রাইভার সোহেল খান (৪০), ফুফা নজরুল ইসলাম (৪০) ও ফুফু নুপুর বেগম (৩০)। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজধানীতে বসবাস করছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণীর ১৪ মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাসের মাথায় স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে ওই তরুণী বাবার বাড়ি অবস্থান করছিলেন।

সংসারে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তিনি একটি কাজ খুঁজছিলেন। এ সুযোগে ফুফু নুপুর বেগম ভালো বেতনে ঢাকায় চাকরির কথা বলে তাকে প্রলোভন দেখাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ফুফুর প্রস্তাবে রাজি হন ওই অসহায় তরুণী। ২০২০ সালের ৯ই নভেম্বর চাচা ও ফুফু-ফুফা মিলে তাকে ঢাকার শনিরআখড়ায় একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে প্রায় আট মাস ধরে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। তাকে দিয়ে যৌনকর্ম করিয়ে টাকা উপার্জন করেছেন চাচা ও ফুফু-ফুফা। এই বাজে কাজ (যৌনতা) করতে না চাইলে তাকে প্রতিদিন মারধর করা হতো। ওই তরুণী কয়েকবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছেন। তবে তারা দিনরাত পাহারায় থাকতেন। এদিকে ওই তরুনীর মা ও বাবা জানিয়েছেন, তাদের মেয়ে চম্পাকে (ছদ্বনাম) ৮ মাস যৌন কাজ করতে বাধ্য করিয়েছে এমনকি নির্যাতন করেছে আমার ছোট ভাই সোহেল খাঁন ও আমার বোন নুপুর ও তার স্বামী নজরুল।

তারা আরও বলেন আমাদের মেয়েকে ২ লাখ টাকায় পতিতালয়ে বিক্রি করে দেন তারা। আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এদিকে ওই তরুনী প্রতিবেদককে জানান, ১০ জুলাই বিকেলে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে ফুফুর বাসার কাজের বুয়ার সহায়তায় আমি পালিয়ে বাড়িতে চলে আসি। গ্রামের বাড়ি ফিরে এসে লোকলজ্জা ও পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি গোপন রাখেন ওই তরুনী। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, গ্রামে থাকা অবস্থায় আবারও ঢাকায় নিয়ে যৌনকর্ম করাতে চাচা ও ফুফু-ফুফা তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। এ অবস্থায় তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ওই তরুণী। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন তিনি। এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন ওই তরুণী। বিষয়টি তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্বে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।