ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ১১:০৫
বাংলা বাংলা English English

কারখানায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছেন ৭৭ শতাংশ শ্রমিক

রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত আসার পর পোশাক শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক কষ্টে কারখানায় যোগ দেওয়া শুরু করেন শ্রমিকরা। সে সময় কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ সার্বিক বিষয় কেমন চলবে বা শ্রমিকদের কোভিডের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে আসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল শ্রমিকরা।

এসব নিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে “গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ” নামে একটি গবেষণা জরিপ যৌথভাবে পরিচালনা শুরু করে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রোফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও)। মূলত বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, আয়, ব্যয়, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মজুরি প্রদান ব্যবস্থার ডিজিটাইজেশন ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয় জরিপকালে।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সানেম জানায়, আগস্টের ৬ তারিখে পরিচালিত এই জরিপে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের কাছে লকডাউন চলাকালীন সময়ে কাজে ফেরার নির্দেশের ব্যাপারে তাদের মনোভাব জানতে চাওয়া হয়।

৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে তারা বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালু হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহে শ্রমিকদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। আগস্টের ৬ তারিখে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে তারা এর আগের সপ্তাহে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন। পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রমিকদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে কাজে উপস্থিত থাকা পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তাদের কাজের সময় পরার জন্য মাস্ক দেওয়া হয়েছিল। তবে কাজের সময় কারখানায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে তুলনামূলক ইতিবাচক চিত্র পাওয়া যায়। কাজে যোগ দেয়া উত্তরদাতাদের মাঝে ৭৭ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা কাজের সময় কারখানায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছেন।

জরিপে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা বাদে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অংশগ্রহণকারী ৪৭ শতাংশ পোশাক শ্রমিক জানান যে তাদের কারখানায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৮৭ শতাংশ নারী শ্রমিক ও ৭১ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক মনে করেন কারখানায় নেওয়া অতিরিক্ত পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট ছিল।

এই জরিপের অধীনে, সানেম ও এমএফও ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশের মূল পাঁচটি শিল্প এলাকায় (চট্টগ্রাম, ঢাকা শহর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং সাভার) কর্মরত পোশাক শ্রমিকদের সম্পর্কে প্রতি মাসে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ৬ আগস্ট, ২০২১-এ ১,২৭৮ জন শ্রমিকের একটি নির্বাচিত পুলের মধ্যে ফোনে পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সানেম জানায়, মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা বাদে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৭ শতাংশ পোশাক শ্রমিক জানান যে তাদের কারখানায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আগামীতে কি পরিমাণ মজুরি পাবেন বলে ধারণা করেন জানতে চাইলে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে তারা প্রায় একই ধরনের মজুরি পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন। ১৯ শতাংশ জানান যে তারা এ ব্যাপারে অনিশ্চিত। ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে তারা স্বাভাবিকের চেয়ে কম মজুরি পাবেন বলে ধারণা করছেন। ১ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী মজুরি পাওয়ার প্রত্যাশা করেন, যাদের মধ্যে প্রায় সবাই বেশি ওভারটাইম কাজ করেছেন। যেই ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা স্বাভাবিকের চেয়ে কম মজুরি পাবেন বলে ধারণা করছেন, তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ মনে করেন লকডাউন সংক্রান্ত কারণে মজুরি কমবে। কম মজুরি দিয়ে কিভাবে সামলাবেন জানতে চাইলে সর্বাধিক ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে তারা খাবারের পিছনে ব্যয় কমাবেন।

এক্ষেত্রে সানেমের পর্যবেক্ষণ বলছে, প্রাপ্ত তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, পোশাক শ্রমিকরা তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে নিরাপদ বোধ করছেন না এবং কারখানার মালিকরা তাদের উদ্বেগ কমাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেননি। শ্রমিকদের তাদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, শ্রমিকদের উদ্বেগ নিরসনে ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন, রপ্তানি ও সামগ্রিকভাবে পুরো অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কারখানার মালিকপক্ষ, সরকার, নীতিনির্ধারক ও এডভোকেসি গ্রুপগুলোকে সম্মিলিতভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।