ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১২:১৬
বাংলা বাংলা English English

আইএসের পাশে ভারত

বিভিন্নভাবে ভারত আইএস’কে সাহায্য করছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। ভারতের পাঁচটি জায়গায় এই জঙ্গি গোষ্ঠী প্রশিক্ষণ দেয় বলেও জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মৈদ ইউসুফ এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতবিরোধী ১৩১ পাতার নথি (ডসিয়ে) প্রকাশ করেছেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দিল্লিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রকাশ করা নথি দেখে এমনটাই মনে করছে ভারত।

জানা গেছে, ওই নথিতে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ভারত এবং আইএস সংযোগের অভিযোগটি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাবুলে হক্কানি নেটওয়ার্কের বিষয়ে সতর্কতামূলক প্রচার শুরু করেছে ভারত। কাবুল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আইএস-এর একটি শাখা। ঠিক তখনই পরিকল্পনামাফিক এই বিশেষ জঙ্গি সংযোগের অভিযোগ করা হলো ভারতের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংগঠনের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত, রাশিয়ারও প্রবল শত্রু এই জঙ্গি সংগঠনটি। ফলে ভারতের সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়ে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কে অনাস্থা তৈরি করা ইসলামাবাদের উদ্দেশ্য বলে মনে করছে দিল্লি।

চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। সেখানে দু’পক্ষের প্রবল বাগযুদ্ধের সম্ভাবনা দেখতেন বিশেষজ্ঞরা।

দিল্লি মনে করছে, জাতিসংঘে আইএস-এর সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য সরব হতে পারে পাকিস্তান। তাতে যোগ দিতে পারে চীন, রাশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ। তার আগে ভারতকে বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় এই নথি প্রকাশ। নথিটি পাকিস্তান বিভিন্ন দেশকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একজন বলেন, মধ্য এশিয়া ও ভারতে নিজেদের মতাদর্শ ছড়িয়ে দিতে চায় আইএস। কেরালা ও মুম্বাই থেকে অনেক যুবকই আইএসে যোগ দিয়েছে। মূলত অনলাইনের মাধ্যমে তাদের এই নিয়োগ চলছে। এদেরকেই প্রশিক্ষণ দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে কাজে লাগানো হবে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, একবার ভারতে আইএস ঢুকতে পারলে, রক্তবীজের মতো তা ছড়িয়ে পড়বে।

মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে আফগানিস্তানের পূর্বভাগে তৈরি হয় আইএস-খোরাসান জঙ্গিগোষ্ঠী। এরপর দ্রুত বিশ্বের বড় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে শুরু করে তারা। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অনেকের থেকে এগিয়ে তারা। পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি, উজবেকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গেও গভীর যোগ রয়েছে এই সংগঠনের।