ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১২:২২
বাংলা বাংলা English English

২১ মাসের দণ্ডে কারাবাস ৪৪ মাস, তবুও মেলেনি মুক্তি

চেক ডিজঅনারের ৪ মামলায় পৃথকভাবে ২১ মাসের দণ্ড দেওয়া হয় রাজশাহীর জহির উদ্দিনকে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি কারাবন্দি। এর মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে মুক্ত হতে না পেরে অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন জহির উদ্দিন।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

রুলে চেক ডিজঅনার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত জহির উদ্দিনকে বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রাখাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং মেয়াদের বেশি সাজা খাটার পরও তাকে কেন মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি সাজার মেয়াদ শেষ হলেও তাকে কেন মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না, ১২ জুলাই রাজশাহী কারাকর্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠি নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আদালত।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
আইনজীবী জানান, রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানার শিরোইল কলোনির এলাকার বাসিন্দা রমজান আলীর ছেলে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী মো. জাফর আহাম্মদ খান চেক ডিজঅনারের অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা করেন।

এ চার মামলায় রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ ২য় আদালত ২০১৭ সালে তিন মামলায় ৬ মাস করে এবং এক মামলায় ৩ মাস কারাদণ্ড দেন।
২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি জহির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন জহির উদ্দিন। সাজার মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কারামুক্ত হতে না পেরে রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন তিনি। কিন্তু সেটি নিষ্পত্তি করা হয়নি। এরপর তিনি রিট করেন।
রিটে বিবাদীরা হচ্ছেন, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, রাজশাহী যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, রাজশাহী জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সাতজন।
আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী জানান, আইন অনুসারে আপিল করতে হলে মোট অর্থের ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করতে হয়। সেই ক্ষমতা জহির উদ্দিনের নেই। সে কারণে তিনি আপিল করতে পারেননি। এখন চার মামলায় আলাদাভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে ২১ মাস। যে দিন থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে আজ পর্যন্ত প্রায় ৪৪ মাস হয়ে গেছে। কিন্তু তাকে কারমুক্তি দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সেটা তারা আমলে নেননি। অর্থ পাওয়ার জন্য পাওনাদার দাবির মামলা করতে পারেন। তখন জেলা প্রশাসক তার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে তুলতে পারেন।