ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ১১:৪৪
বাংলা বাংলা English English

কিশোরগঞ্জে পানিবন্দি বিদ্যালয়, ঝুঁকি নিয়েই স্কুলে শিক্ষার্থীরা

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ছোট ছোট নৌকায় চড়ে পানিবন্দি ধুপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়েছে শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, এসময় আগত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রবেশ করানো হয় শ্রেণিকক্ষে। কাদামাটি মাড়িয়ে নৌকায় করে স্কুলে পৌঁছায় ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের ধুপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বিদ্যালয়গামী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৩-১৪ সালে বিদ্যালয় বিহীন এলাকায় ১৫০০ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ধুপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪০ জন। বিদ্যালয়ের চারপাশেই বর্ষার পানিতে টইটুম্বুর। আর বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বর্ষায় নৌকা আর গ্রীষ্মকালে জমির আইল। আর এতে করে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বই খাতা ও কাপড় চোপড় নষ্ট করে বাড়ি ফিরতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের।

একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তা না থাকায় বর্ষাকালে আমাদের নৌকায় করে স্কুলে আসা যাওয়া করতে হয়। নৌকায় চড়ে আসতে গিয়ে অনেক সময় পড়ে গিয়ে জামা কাপড় নষ্ট হয়। ভিজে যায় বই-খাতাও। দুর্ভোগের কারণে আমাদের অনেক সহপাঠী বিদ্যালয় পরিবর্তনও করেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তা না থাকায় আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে চায় না। অভিভাবকরা বাচ্চাদের স্কুলে দিতে চায় না। বর্ষা মৌসুমে ডিঙি নৌকা দিয়ে আসতে গিয়ে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে প্রায়ই বইখাতা ভিজে যাওয়ারও ঘটনা ঘটছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সব শ্রেণি মিলিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৪০ জন। একটি রাস্তার অভাবে বিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন লিটন বলেন, এলাকার পাকা সড়ক থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার। রাস্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে কোন উন্নতি হচ্ছে না। স্থানীয় এমপির মাধ্যমে একটি প্রকল্প হাতে পেলেও জায়গা সংকটের কারণে রাস্তা নির্মাণ করা যাচ্ছে না।