ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১২:১৯
বাংলা বাংলা English English

ভাঙা হাত নিয়েই স্কুলে হাজির জিহান

দীর্ঘ দেড় বছর পর স্কুল খোলার আনন্দে ভাঙা হাত নিয়ে স্কুলে উপস্থিত হয়েছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহান। তাকে স্কুলে হাজির হতে দেখে অবাক শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা।

জিহান জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য উৎসুক হয়ে ছিলাম। বাবা-মায়ের নিষেধ সত্ত্বেও এসেছি। এখন খুব ভালো লাগছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের বুড়িরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র জিহান। বিদ্যালয় সংলগ্ন শাহিদুল-জেসমিন দম্পতির সন্তান সে।

জিহানের বাবা শাহিদুল বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে তার বাম হাত ভেঙে যায়। এজন্য চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা তাকে সপ্তাহখানেক বিশ্রাম নিতে বললেও স্কুল খোলায় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ব্যাগ হাতে স্কুল যেতে দেখে সেও স্কুলে যাওয়ার বায়না ধরে। পরে তাকে আমরা আটকাতে পারিনি। জোর করে সে স্কুলে গেছে।

বুড়ির ভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরন্নবী বলেন, বিদ্যালয়ে মোট ১৯০ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বেশ উচ্ছ্বসিত। তবে আজকে সব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের আসার নির্দেশনা না থাকলেও, প্রতিটি ক্লাসেই ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে।

দলদলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোন্নাফ আনছারি বলেন, প্রথম দিন বিদ্যালয়ে মোট ১৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ শতাংশ উপস্থিত হয়েছে। ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বেড়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের প্রথম দিনে পঞ্চম শ্রেণিতে ৪৯ জনের মধ্যে ২৭ জন উপস্থিত এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ৫২ জনের মধ্যে ৪১ জন উপস্থিত ছিল।

কচাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৫৩ জনের মধ্যে ৭৩ জন, দশম শ্রেণিতে ১৮২ জনের মধ্যে ১০৭ জন এবং সপ্তম শ্রেণিতে ১৬৭ জনের মধ্যে ৬৮ জন উপস্থিত হয়েছে।

এছাড়াও নাগেশ্বরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের প্রথম দিনেই বিদ্যালয় মাঠ গো-চরণ ভূমিতে পরিণত হয়ে ওঠে।

রৌমারী উপজেলার কুটিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ৫৬ জনের মধ্যে ৩২ জন উপস্থিত ছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলোয়ারা সিদ্দিকা পাঠদানের প্রথম দিনেই উপস্থিতির কম হবার বিষয়ে বলেন, বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। তারপরেও আমরা সব অভিভাবকদের কাছে সংবাদ পাঠিয়েছি। আগামীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলার ধনারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ১৮ জনের মধ্যে ৬ জন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ১৩ জনের মধ্যে চারজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

রাজারহাট উপজেলার সাকোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠদান শুরুর আগেই বিদ্যালয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি রং করে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরিমাপ করাও হয়। সামাজিক দূরত্ব রেখে পাঠদান পরিচালনার দৃশ্য চোখে পড়ে। বিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থীদের হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই পাঠদান কার্যক্রম শুরু চলছে। এছাড়াও জেলার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সেগুলোও বিকল্প ব্যবস্থা পাঠদান শুরু হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম বলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এসেছে। আজ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়েছে। সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮০ ভাগ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরা এসে পড়ায় তাদের বুঝিয়ে বাড়ি পাঠাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে শিক্ষকদের।