ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ১১:৫১
বাংলা বাংলা English English

শুভ্রতা ছড়ানো কাশফুলে ভরে উঠে বাংলা

কাচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলার ছোটাছুটি, নদীর ধারে কিংবা গ্রামের কোনো প্রান্তে মৃদু সমীরণে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলের স্নিগ্ধতা, দোলনচাঁপা, বেলি, শিউলি, শাপলা ফুলের অবারিত
সৌন্দর্য নিয়ে আসে শরৎ। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ আর বর্ষার অঝোর ধারায় শ্রাবণ ঢলের পর শরতের এ মেঘ, এই বৃষ্টি আবার এই রোদের রৌদ্রছায়া খেলায় মুগ্ধ হয়ে আমাদের মন রবিঠাকুরের সুরে সুর মিলিয়ে গেয়ে উঠতে চায়- ‘নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই-লুকোচুরি খেলা।’ নীল আকাশের পানে যেন ছুটছে সুগ্ধতা ছড়ানো কাশফুল। বৃর্ষার গুড়গুড়
শব্দের দিনের শেষে আসে শরৎ। শুভ্রতায় ছড়ানো কাশফুলে ভরে উঠে বাংলা। পথপ্রান্তরে দেখা মিলে কাশফুলের। যখনি পশ্চিমা আকাশ হয়ে নিদ্রায় যেতে চাই দিনের তীব্র খরতাপ মাখা সূর্যিমামা। নীল আকাশে ভেসে বেড়ায় শ্বেত মেঘের বেলা। শরতের সৌন্দর্যের উপমায় থাকে সাদা আকাশ আর শ্বেত রঙে মুগ্ধতা ছড়ানো কাশফুল। ষড়ঋতুর বাংলায় রকমারি সৌন্দর্য্যে আগমন ঘটে প্রতিটি ঋতুতে। কখনো রাঙাকৃষ্ণ, কখনো শ্বেত কাশফুলে ভরে সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি। বাংলার রূপের প্রেমে পড়ে কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবি মনে লিখেছেন- ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর। প্রত্যেক ঋতু আলাদা বৈশিষ্ট্য ও অনুষঙ্গ নিয়ে আসে এই বাংলায়। শরতের সেই অনুষঙ্গ কাশফুল। ‘ঘন নীল আকাশ, গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘ, কাশবন, শিউলির হালকা মৃদুমন্দ সৌরভে শরতের রূপে মুগ্ধ হয় না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শরতের প্রকৃতির রোদ ছায়ার খেলা প্রভাব ফেলে আমাদের মনেও। আমাদেরও তখন ইচ্ছা করে শরৎ সাজে সেজে উঠতে। আর তাই তো শরতে প্রকৃতির এ মন মাতানো সাজ কখনও উঠে আসে আমাদের শাড়ির আঁচলে এক টুকরা নীল আকাশ হয়ে, তো কখনও শরতের কাশবন যেন দোলা দিয়ে যায় কামিজের প্রান্ত ছুঁয়ে।

শরৎ বলতেই আমরা বুঝি নীল-সাদা আর সবুজের ঐক্যতান। তাই এ সময় প্রকৃতির সঙ্গে একাকার হতে মানাবে এ রঙের পোশাকগুলো। আপনার হালকা নীল, সাদা, আকাশি, ধূসর কিংবা সবুজের যে কোনো শেডের পোশাকই শরতের বার্তা বহন করবে। আবার শরৎ বলতেই অনেকে বোঝেন হালকা সবুজ, টিয়া, হলুদ, কমলা রংগুলো। এসব রঙের পোশাকও বেছে নিতে
পারেন শরৎ সাজে। পোশাকের ক্ষেত্রে সিল্ক কিংবা জর্জেট পরার এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আরামদায়ক হবে লিনেন, ধুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন, তাঁতের কাপড়ও। জর্জেট, জয়সিল্ক, সিল্ক কাপড়ের লং কামিজ, গাউন ধাঁচের পোশাক এখনকার
উৎসবের জন্য ফ্যাশনেবল এবং আরামদায়ক। স্কার্ট, টপস, কুর্তি বেছ নিতে পারেন ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে। দৈনন্দিন অফিসে শাড়ি পরতে চাইলে এখন অনায়াসে পরতে পারেন তসর, অ্যান্ডি, তাঁত কিংবা কটন শাড়ি। রাতের দাওয়াতে সিল্ক, কৃত্রিম মসলিন বা কাতান শাড়ি আবহাওয়ায় দারুণ লাগবে। সময় এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাজও বদলে যায়। শরতের এ সময়ে দিনের বেলা গরমে যেমন গাঢ় সাজ মানানসই নয়, তেমনি অন্যদের চোখেও তা দৃষ্টিকটু। তাইতো এ সময়ের সাজে স্নিগ্ধ ভাব থাকা চাই। এ আবহাওয়ায় হালকা মেকআপই ভালো। দিনের বেলায় ফাউন্ডেশন না লাগিয়ে হালকা কোনো ফেস পাউডার লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে ত্বক অনেক বেশি মসৃণ ও স্নিগ্ধ দেখাবে। আর যদি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতেই
চান তবে ম্যাট ফাউন্ডেশন ভালো হবে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে লাইট- ব্রাউন কালারের আইশ্যাডো লাগিয়ে নিলে অনেক বেশি ন্যাচারাল দেখাবে। দিনের সাজে চোখের নিচের পাতায় আইলাইনার অথবা মাশকারা না লাগানোই ভালো। বরং পোশাকের রং মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন রঙিন কাজল। নীল, সবুজ, গোলাপি কাজলের রেখা টেনে নিতে পারেন চোখের কোণে। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে একাকার হবে আপনার এ সাজ। দিনের বেলা  ব্লাশন না দিয়ে রাতে দিন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কপালে আলতো করে ছুঁয়ে দিন ছোট্ট একটি টিপ। শরৎ সাজে রাতের বেলায় একটু গাঢ় আই মেকআপ করতে পারেন, ভালো লাগবে। সে ক্ষেত্রে চোখটা সাজাতে মেরুন, কফি, নীল কিংবা সবুজের বিভিন্ন শেডে। এতে চোখের পাতায় সেজে উঠবে শরৎ। তবে প্রকৃতিতে যেহেতু রোদ-বৃষ্টির খেলা তাই এ সময় প্রসাধন হতে হবে পানিরোধক। শরতে খোলা চুলের সৌন্দর্যই যেন ভিন্ন কিছু। তবে ভালো লাগবে খোঁপা, বেণিতেও। চুল যেভাবেই ইচ্ছা সাজান কিন্তু তাতে গুঁজে দিন শরতের জংলা থেকে যত্নে বেড়ে ওঠা যে কোনো ফুল। চুলের সাজে এ ঋতুতে দোলনচাঁপায় যেমন স্নিগ্ধ দেখাবে তেমনি আস্ত একটা কাশফুল খোঁপায় পেঁচিয়ে নিলেও অসাধারণ লাগবে। শরতের সাজ পোশাকের সঙ্গে বিশেষ করে নীল রঙের পোশাকের সঙ্গে মুক্তার গহনা অনেক বেশি মাধুর্য
এনে দেয়। ভালো লাগবে মেটাল, কাচ, মাটি, পুঁতি, বিডসের গহনাতেও।

 

লেখক..সজীব আল মারুফ কৃষিবিদ।