ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১২:৫৬
বাংলা বাংলা English English

যানজট আর জনদুর্ভোগের আরেক নাম ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক

যানজট আর জনদুর্ভোগের আরেক নাম ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক। রোদ, ধুলা আর বৃষ্টিতে খানাখন্দ সড়কে জলাবদ্ধতা; এই নিয়েই গাজীপুর সড়কে সাধারণের নিত্যসঙ্গী। যেখানে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পৌঁছাতে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। গাজীপুরে তৈরি যানজটের স্রোত ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকাতেও। এমন পরিস্থিতির জন্য সিটি মেয়র দায় চাপালেন বিআরটি প্রকল্পের ওপর।

দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা একরকম যুদ্ধ শেষে গাজীপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর পৌঁছেছেন হারুন মিয়া। আগে যেখানে দিনে চারবার গাজীপুর-যাত্রাবাড়ী যাত্রী পরিবহন করতেন, সেখানে এখন একবার গন্তব্যে যাওয়াটাই চ্যালেঞ্জ।

চালকরা বলেন, আমাদের অবস্থাও খারাপ, যাত্রীদের অবস্থাও খারাপ। রাস্তার জন্য গাড়ির অবস্থাও খারাপ হয়ে গেছে।

দৃষ্টিসীমার সবটাজুড়ে থাকা এই গাড়ির দীর্ঘ সারি- জানে না, কখন ঘুরবে চাকা। বন্ধুর রাস্তায় ধুলায় মিলিয়ে যায় গাড়ি, অল্প বৃষ্টিতে ফেঁসে যায় চাকা। দীর্ঘদিন ধরেই গাজীপুরে চলছে উন্নয়ন মহাযজ্ঞ। এ কারণে সড়কের চিত্রটা এখন এমনই।

স্থানীরা বলেন, এখান থেকে এখন রোগী নিতে হলে বিমান লাগবে। এ ছাড়া আর উপায় নেই। মাঝে মাঝে এই রাস্তা পার হতে ৮ থেকে ৯ ঘন্টা সময়ও লেগে যায় আমাদের।

গাজীপুর থেকে রাজধানীর বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে দেশের প্রথম বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের কাজ চলছে। পরিবহন চালক থেকে চাকরিজীবী সবারই নিত্যসঙ্গী গাজীপুরের এই যানজট।

উন্নয়নের পাশাপাশি চলছে সাধারণ যান চলাচলের আলাদা লেন ও পয়নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের নির্মাণকাজ। এতে সড়ক সরু হওয়ায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ।

তবে সড়কের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য গাজীপুর সিটি মেয়র দায়ী করলেন, বিআরটি প্রকল্পের কর্তাব্যক্তিদের। বলেন বিআরটির নকশার ভুলের খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাস্তার নকশা, ঠিকাদারদের অবহেলা এসব কারণে এখন লাখ লাখ গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে।

সর্বশেষ প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে ।

গত কয়েক বছরে শুধুই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বিআরটি প্রকল্পের সেই সঙ্গে গাজীপুর সড়কে জনগণের দুর্ভোগের মেয়াদও বেড়েছে। মাত্র ১২ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে যেখানে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টার বেশি। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি নিচের রাস্তা সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীরা।