ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৪:০৯
বাংলা বাংলা English English

ডিএনএ বিলে আতঙ্কে ভারতে সংখ্যালঘুরা

অপরাধ দমনে জেনেটিক উপাত্ত সংগ্রহ ও ব্যবহারে ভারতের একটি আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যাপকহারে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন ঘটতে পারে। এছাড়া সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডিএনএ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ বিলে নিখোঁজ ও অপরাধীদের ব্যক্তিগত পরিচয় তৈরির সুযোগ করে দেবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক তথ্যভাণ্ডারে তাদের ডিএনএ তথ্য মজুদ করে রাখা হবে। এছাড়া ডিএনএ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিলটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলা পার্লামেন্টের চলমান অধিবেশনে এটি পাস হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জাত কিংবা সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিচয় তৈরিতে এই উপাত্তের অপব্যবহার করা হতে পারে। দেশটিতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে ব্যাপকহারে অপরাধী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। যেহেতু ভারতে কোনো আইন বক্তিগত উপাত্তের গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দেয় না, সেহেতু এর মধ্য দিয়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও লঙ্ঘন হতে পারে।

তাক্ষশিলা ইনস্টিটিউটের প্রযুক্তি ও নীতি কর্মসূচি বিষয়ক গবেষণা ফেলো সম্ভাবী নায়েক বলেন, বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বিলটি পাস করা হচ্ছে। এটি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে—এতে কী তথ্য মজুদ করা হবে; তা নিয়ে কোনো পরিষ্কার বক্তব্য নেই

তিনি বলেন, ডিএনএ’র মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পরিবার ও পূর্বপুরুষদের তথ্যও পাওয়া যায়। কাজেই এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের উদ্বেগ রয়েছে।

সরকারি তথ্যানুসারে, ভারতে প্রতি বছর গড়ে চল্লিশ হাজার অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া ষাট হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হচ্ছে।

বিলটি দায়িত্বে থাকা পার্লামেন্টারি কমিটির প্রধান জয়রাম রামেশ বলেন, অপরাধ তদন্তে ডিএনএ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভুল কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সহজ হবে। যদিও ভুল হওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব না।

তিনি বলেন, দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে যাতে কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা না হয়, বিলে সেই নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারে যখন আমরা আরও অভিজ্ঞ হবো, তখন আরও বেশি রক্ষাকবচের কথা বিবেচনা করা হবে।

এ নিয়ে ভারতের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পার্লামেন্ট সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ডিএনএ’র মাধ্যমে মানুষের স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করা যায়। এতে কোনো একটি জাত কিংবা সম্প্রদায়কে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা যাবে। এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে—সরকার দলিত, মুসলিম ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনকে গ্রেপ্তার বেশি করছে।

তিনি বলেন, যখন ডিএনএ’র মতো তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তখন তার অপব্যবহারের আশঙ্কা সর্বোচ্চ। এতে মানুষ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় সাংবিধানিক কাঠামো না থাকায়, এতে তারাঅপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।