ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ১১:৪৯
বাংলা বাংলা English English

করোনার কারণে দুই বছর জয়ের সঙ্গে দেখা নেই: প্রধানমন্ত্রী

করোনা মহামারির কারণে প্রাণপ্রিয় সন্তানের সঙ্গে দেখা নেই মায়ের। সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিনে তাকে কাছে না পাওয়ায় আক্ষেপ করে মা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, করোনার কারণে জয়ের সঙ্গে দুই বছর ধরে দেখা নেই আমার…।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সন্তানের নাম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭১ এর উত্তাল মার্চ। ২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস। সারাদেশের সব বাসার মতো ধানমণ্ডির বাসায় বাবা তুললেন বাংলাদেশের পতাকা। প্রতি সপ্তাহের মতো সেদিনও আমি তার হাতের নখ কেঁটে দিচ্ছিলাম। কথা প্রসঙ্গে বাবা বললেন, তোর ছেলে হবে! সেই ছেলে স্বাধীন বাংলাদেশেই জন্ম নেবে। তার নাম রাখবি জয়।’

‘বাবা তখন পাকিস্তানের কারাগারে। আমরা আটক বন্দিখানায়। আমাদের তখন কোনো কাজ ছিল না। আনন্দ বলতে কিছুই ছিল না। ছেলে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আমার মা বললেন, কারাগারে থেকেও আমরা যেন একটু সজীব হলাম। তখন মায়ের দেওয়া নাম রাখা হলো সজীব।’

নিজের একমাত্র ছেলের নামকরণ সম্পর্কে এভাবেই স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় স্মৃতিচারণ করে তিনি আরো বলেন, ‘আমার মাকে বন্দিশালায় রেখেই আমাকে হাসপাতালে পাঠায় পাকসেনারা। একদিন কবি সুফিয়া কামাল আমার কেবিনে কৌশলে ঢুকে পড়েন। আমার কেবিনের সামনে যে সেনাসদস্য পাহারায় ছিল সে তা দেখে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে সে ঢুকে সুফিয়া কামালের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে কেবিন থেকে বের করে দেয়। তখন আমি তাকে ধমক দিয়ে বলি, ‌’তুমি আমার কেবিনে অনুমতি ছাড়া ঢুকলে কেন? ফের যদি এ কাজ করো তাহলে আমি মুক্তিবাহিনী ডেকে তোমার লাশ ফেলে রাখব। সে এটা শুনে ভয় পায়।’

জয়ের বয়স যখন ৭ দিন তখন হাসপাতাল থেকে আবার বন্দিশালায় ফিরে আসব। সেদিন এক কর্নেল আসে হাসপাতালে। জয়কে কোলে নিয়ে জানালার একদিকে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। জানালার অন্যপাশ থেকে কর্নেল শুনতে চায়, ছেলের নাম কী? আমি বলি- জয়। সে বলে- ইসকা মতলব ক্যায়া হ্যায়? উত্তরে আমি জানাই- ‘জয় মানে জয়, জয় মানে ভিকটরি! জয় মানে আনন্দ।’ যখন বলেছি ‘জয় মানে ভিকটরি তখন সে মেজাজ দেখিয়ে বিরক্ত হয়ে বলছিল-অর এক নমরুদ পয়দা হুয়া!’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরকমই তাদের চরিত্র ছিল। মাত্র ৭ দিনের বাচ্চার সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটিও জানতো না তারা।