ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৪:৩৪
বাংলা বাংলা English English

মায়ের মৃত্যুতে আইভীর মাথায় শামীমের হাত, দিলেন সান্ত্বনা

দীর্ঘ দুই যুগ পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাড়িতে গিয়ে দেখা করলেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। মায়ের মৃত্যুশোকে কাতর আইভীকে সমবেদনা জানাতে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকেলে নগরীর দেওভোগ এলাকায় তার পৈর্তৃক বাড়ি ‘চুনকা কুটিরে’ ছুটে যান শামীম ওসমান। এ সময় আইভী ও তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং সবার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বড়ভাই সুলভ স্নেহে মেয়র আইভীর মাথায় কয়েকবার হাত বুলিয়ে সান্ত্বনাও দেন আওয়ামী লীগের এই আলোচিত সংসদ সদস্য।

এর আগে ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার বাড়িতে গিয়ে আইভীর মা মমতাজ বেগমের সাথে দেখা করে দোয়া চান। পরে ২০১৭ সালে নিজের একমাত্র ছেলে অয়ন ওসমানের বিয়ের দাওয়াত দিতে নিমন্ত্রণপত্র নিয়ে মেয়র আইভীর বাড়িতে গেলেও ওই সময় আইভী বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় শামীম ওসমান ভেতরে প্রবেশ করেননি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলীয় নেতাদের নিয়ে সিটি মেয়র আইভীর বাড়িতে প্রায় আধঘণ্টা অবস্থান করেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এ সময় তিনি মেয়র আইভীর মা প্রয়াত মমতাজ বেগমকে নিয়ে স্মতিচারণ করেন। শামীম ওসমান ওসমান মেয়রের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, চাচী (মমতাজ বেগম) আল্লাহওয়ালা মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকে মায়ের মতো আদর করতেন। ১৯৯৬ সালে এমপি হওয়ার পর আমি চাচীর দোয়া নিতে এসেছিলাম। ওই সময় তিনি নিজ হাতে আমাকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালেই আমি আলী আহাম্মদ চুনকা (মেয়রের বাবা) চাচার বাড়ির সামনের রাস্তাটি ‘আলী আহাম্মদ চুনকা’ সড়ক হিসেবে নামকরণ করি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার ছিল।
এ সময় মেয়র আইভী তার মায়ের কুলখানি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বাদ আছর দোয়ায় অংশ নিতে শামীম ওসমানসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে দাওয়াত করেন। শামীম ওসমানও উপস্থিত সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই দোয়ায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নিজে উপস্থিত থাকার কথাও জানান।
মেয়র আইভীর বাড়িতে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে ছিলেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ। ছিলেন মেয়র আইভীর নিকট আত্মীয়-স্বজনরাও। সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে তারা ফল জাতীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়নও করেন।
এর আগে বিকেল চারটায় নগরীর মাসদাইর পৌর করবস্থানে গিয়ে মেয়র আইভীর সদ্যপ্রয়াত মা মমতাজ বেগমের কবর জিয়ারত করেন শামীম ওসমান। একই সাথে নিজের মা-বাবা ও বড় ভাইয়ের কবর জিয়ারত করে দোয়ায় অংশ নেন। সেখানে তিনি মেয়র আঈভীর প্রয়াত মা’কে চাচী সম্বোধন করে অতীতের কয়েকটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিজের স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী থাকায় গত রবিবার মেয়র আইভীর মায়ের মৃত্যুর দিন এসে দেখা করতে পারেননি। তবে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি মেয়র আইভীর মায়ের কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। শোকাহত পরিবারটির সবাই যেন দ্রুত এই মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে পারেন সেই প্রত্যাশার কথাও জানান শামীম ওসমান।
গত রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে মেয়র আইভীর মা মমতাজ বেগম ঠাণ্ডাজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। একই দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সহধর্মিনী জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় শামীম ওসমান মেয়র আইভীর মায়ের জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
স্ত্রী লিপি কিছুটা সুস্থ হওয়ায় মঙ্গলবার শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে ছুটে যান এবং মেয়রের প্রয়াত মা মমতাজ বেগমের কবর জিয়ারত করেন। পরে বাড়িতে গিয়ে মেয়র আইভীর সাথে দেখা করে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান ও স্বান্তনা দেন। মেয়র আইভীর মায়ের জানাজায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান উপস্থিত হতে না পারলেও তার বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সেদিন রাতে জানাজায় অংশ নেন এবং বাড়িতে গিয়ে মেয়র আইভীকে স্বান্তনা দিয়ে আসেন।