ঢাকা, বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১২:৪৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ওসি বদলি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ মাহমুদকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বদলি সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলাম তাণ্ডব চালানোর পর থেকেই জেলা পুলিশে বদলির হিড়িক পড়ে। ইতোমধ্যে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন, জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আলাউদ্দিন চৌধুরী, সদর মডেল থানার ওসি আব্দুর রহিম, পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ শাহজাহান, পরিদর্শক (অপারেশনস) ইশতিয়াক আহমেদ, সরাইল থানার ওসি নাজমুল আহমেদ ও বিজয়নগর থানার ওসি আতিকুর রহমান এবং খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি গাজী সাখাওয়াত হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে বদলি হয়েছেন।

এছাড়া একইভাবে ১৩ জন উপ-পরিদর্শককে একযোগে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। জেলা শহর জুড়ে স্মরণকালের তাণ্ডব চালালেও পুলিশ প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করে পুলিশ সুপারের অপসারণের দাবি তুলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
তবে ঘটনার ৪ মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলেন, কোনো বাহিনী যদি ব্যর্থ হয় তার দায়ভার বাহিনীর প্রধানের ওপর বর্তায়। কিন্তু জুনিয়র, সিনিয়র লেভেলের একাধিক কর্মকর্তা বদলি হলেও বাহিনীর প্রধানের বহাল তবিয়তে থাকায় বিষয়টি রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন আশুগঞ্জের ওসির বদলির বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আশুগঞ্জের ওসিকে জনস্বার্থে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তবে এখনও নতুন কাউকে আশুগঞ্জ থানায় পদায়ন করা হয়নি। এটি পুলিশের বদলির চলমান প্রক্রিয়া বলে জানান তিনি।