ঢাকা, বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১২:৩৪

ঈদে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

করোনা মহামারি পাল্টে দিয়েছে সবকিছু। তার মধ্যে বাদ পড়েনি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। ঈদের ছুটিতে যেখানে লাখ লাখ পর্যটকের সমাগম হয়, সেখানে এখন হাহাকার। সাগরতীরের বালিয়াড়িতে নেই মানুষের পদভার। চারদিকে কেবল শূন্যতার ছোঁয়া।

বুধবার (২১ জুলাই) বিকেলে ঈদুল আজহার প্রথম দিন এ দৃশ্যের দেখা মেলে কক্সবাজার সৈকতে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এসেছেন রুবেল ও মর্জিনা নামে এক দম্পতি। তাদের সঙ্গে আছে দুই পুত্র রাইয়্যান ও রিদুয়ান। চারজনই প্রবেশ করতে চাইলেন সৈকতের বালিয়াড়িতে। কিন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশের কড়া পাহারা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের বাধায় আর সৈকত ও সূর্যাস্ত দেখা এবং ঘোরা হলো না তাদের।

বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় কথা হয় তাদের সঙ্গে। এসময় রুবেল বলেন, ‘ঈদের দিন, সমুদ্র সৈকতে আসবো না তা কী হয়। করোনার কারণে সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জেনেও পরিবার নিয়ে একটু ঘুরতে আসা। কিন্তু আর দেখা হলো না। চলে যাচ্ছি, তবে আশা করি, খুব শিগগিরই সব ঠিক হবে। পরেরবার কোনো বাধা বা নিষেধাজ্ঞা না থাকলেই পরিবার নিয়ে সৈকতে ছুটে আসব।’
সৈকতের বিচ মার্কেটের পয়েন্টে সৈকতে নামতে ভিড় করে অর্ধশতাধিক দর্শনার্থী। কিন্তু এই পয়েন্টে প্রবেশদ্বারে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের বক্স। টহল রয়েছে ২ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচবাইক টহলরত একজন ট্যুরিস্ট পুলিশ। যার কারণে প্রবেশ করতে পারছেন না ঈদের ছুটিতে সৈকত দেখতে আসা স্থানীয় দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় দর্শনার্থী এটিএম আমিরুল গনি খোকন বলেন, ‘ঈদের দিন হিসেবে একটু সৈকতে বেড়াতে এলাম। কিন্তু সৈকতে ঘুরতে পারলাম না। মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’ সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বেড়াতে আসা আরেক নারী দর্শনার্থী এলি বলেন, ‘করোনা সবকিছু পরিবর্তন করে দিয়েছে। ঈদুল আজহার এই দিনে সৈকতে লাখো মানুষের সমাগম হয়। কিন্তু সেই সৈকত এখন ফাঁকা। আর করোনার কারণে এই ফাঁকা সৈকতে প্রবেশ করতে পারছি না। সবকিছু মেনে নিতে হচ্ছে, করার কিছুই নেই।’
শুধু এসব পয়েন্ট নয়, সৈকতের আরও ৬টি পয়েন্টে চলছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সতর্ক অবস্থান। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ঈদের দিন যারাই সৈকতে প্রবেশ করতে চাচ্ছে, তাদেরই মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।

কক্সবাজারস্থ ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে গেল ১ এপ্রিল থেকে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এখন ঈদুল আজহার ছুটিতে অনেকে সৈকতে এসে প্রবেশ করতে চায়। কিন্তু নির্দেশনার কারণে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশের কড়া পাহারা রয়েছে। সুতরাং, বিধি নিষেধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সৈকতে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’