ঢাকা, বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১:০৩

মুলাদীতে জামাতার বিরুদ্ধে শ্বশুর পরিবারকে অচেতন করে লুটের অভিযোগ

মুলাদীতে শ্বশুর পরিবারকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে এক জামাতার বিরুদ্ধে। উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ওহাব আলী মোল্লার পুত্র সোহান মোল্লার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। পূর্বশত্রুতার জেরে সোহান মোল্লা খাবারের সাথে বিষাক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তার শ্বশুর জয়নাল আবেদীন মোল্লার ঘর থেকে মালামাল লুট করেছে বলে দাবী করেছেন তার স্ত্রী শিপু বেগম। শিপু বেগম জানান, সোহান মোল্লা তার চাচাতো ভাই। সোহান মোল্লার পরিবার তাদের বেশ কিছু সম্পত্তি জোড়পূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এনিয়ে ওই পরিবারের সাথে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছিলো। বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষ্যে ৫ বছর আগে সোহান মোল্লার সাথে তার বিয়ে হয়। কিন্তু বিরোধ নিস্পত্তি না হয়ে উল্টো বেড়ে যায়। জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সোহান প্রায়ই শিপুকে মারধর করতো।

সোহান মোল্লা ৪/৫দিন আগে শিপু বেগমকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তিনি তার পিতা ও ভাইদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ১৮ জুলাই রোববার বেলা ১টার দিকে সোহান মোল্লা তার শ্বশুর বাড়িতে যান। ওই সময় রান্নাঘরের ঢুকে ভাত, তরকারি ও পানির সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দেন। ওই খাবার খেয়ে শিপু বেগম, তার ভাই জাবের মোল্লা, বোন হেনা বেগম, নূর জাহান বেগম, ভাগ্নে অভি আহমেদ ও দিনমজুর বেল্লাল সরদার অচেতন হয়ে পড়ে এবং পরদিন সোমবার তাদের জ্ঞান ফেরে। ঘরের সবাই অচেতন থাকা অবস্থায় সোহান মোল্লা তার শ্বশুর বাড়ির আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে ৩লাখ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করেছে বলে দাবী করেছেন শিপু বেগম ও তার ভাই জাবের মোল্লা।

বিকালে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন এসে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় শিপু বেগম বাদী হয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে সোহান মোল্লা, ওহাব আলী মোল্লা, সোহাগ মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এব্যাপারে সোহান মোল্লা জানান, ৪/৫দিন আগে তো দূরের কথা আমি কোনোদিন আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলিনি। সে ৪/৫দিন আগে কাউকে কিছু না বলে পিতার বাড়িতে চলে গেছেন। এছাড়া গত ১৮ জুলাই আমি তাদের বাড়িতে যাইনি। তাই তাদের খাবারের সাথে বিষাক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানোর প্রশ্নই আসেনা। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম মাকসুদুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই ফিরোজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে।