ঢাকা, বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১:৫০

চাঁদের বুকে প্রথম পদচিহ্ন এঁকে দেওয়ার ৫২ বছর

রাতে দূর আকাশে দেখা মেলে একখণ্ড চাঁদের। সেই আলোকিত চাঁদ দেখে দেখে কতজন যে চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন, তা হয়তো আমাদের অজানাই। তবে মানুষের চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল ঠিক আজকের দিনেই। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে প্রথম মানুষের পদার্পণ করেছিল ২০ জুলাই। ১৯৬৯ সালের এই দিনে চাঁদের বুকে নিল আর্মস্ট্রং প্রথম পা রাখেন। তার কিছুক্ষণ পরই চাঁদে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পা রাখেন বাজ অলড্রিন।

তারা দুজনই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রযানে করে চাঁদের বুকে অবতরণ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় তাদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। তিনি অবশ্য দুই সঙ্গীর সঙ্গে চাঁদে পা রাখতে পারেননি। কারণ তিনি চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউলের দায়িত্বে ছিলেন। এই তিন মার্কিন নভোচারীই পরে ইতিহাসের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন।

শুরুটা ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাইয়ের সকাল। যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কেনেডি স্পেস সেন্টারের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার লোকে লোকারণ্য। কিছুক্ষণ পরেই দুঃসাহসী তিন নভোচারীকে নিয়ে প্রায় তিন লাখ ৮৪ হাজার কিলোমিটার দূরের চাঁদের পানে ছুটে যাবে অ্যাপোলো ১১ নামের নভোযান। শুধু তাই নয়, মানব ইতিহাসে এবারই প্রথম পৃথিবীর বাইরে পা রাখবে মানুষ, চরকা কাটা চাঁদের বুড়ির দেশে পা রাখবে। হ্যাঁ, যন্ত্র নয়, আস্ত জলজ্যান্ত মানুষ। এর মাধ্যমেই সেদিন মহাকাশ প্রতিযোগিতায় চির প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়নকে দাঁত ভাঙা জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
অবশেষে ২০ জুলাই চাঁদে পা রেখে ইতিহাস তৈরি করেন নীল আর্মস্ট্রং। সেদিন চন্দ্রবিজয় সরাসরি দেখানো হয়েছিল টেলিভিশনে। পৃথিবীর কোটি কোটি লোক টিভিতে ওই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হয়েছিল। নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের বুকে পা ফেলে বলে উঠেছিলেন, ‘ওয়ান স্মল স্টেপ ফর আ ম্যান, ওয়ান জায়ান্ট লিপ ফর ম্যানকাইন্ড।’ টেলিভিশনে এ কথা সবাই শুনতে পান সে সময়। নাসা তাই এই সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের নামকরণ করেছে ‘জায়ান্ট লিপ উদ্‌যাপন’। সে সময় টেলিভিশনে এই দৃশ্য দেখা বহু লোক সেই মুহূর্তটির স্মৃতিচারণা করেছেন। আজও তাদের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত মনে করে মানুষ।