ঢাকা, বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১:৪৯

সাগরে সচল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোলার প্যানেল

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোলার প্যানেল এখন সিঙ্গাপুরে। তাও আবার সমুদ্রে ভাসমান সোলার প্যানেল। দ্বীপরাষ্ট্রের ৫টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সমান বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এ সোলার প্যানেল। ৪৫টি ফুটবল মাঠের সমান এ সোলার প্যানেল। জলবায়ু পরিবর্তন আর পরিবেশ দূষণ রোধে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এ দেশটি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যেই সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণে বাড়াবে সিঙ্গাপুরের সরকার।

পশ্চিম সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ৬০ মেগাওয়াট সোলার ফোটোভোল্টাইক ফার্মটি সেম্বকর্ণ ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি। নতুন এ ফার্মটি বছরে ৩২ কিলো টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখবে। যেখানে রাস্তা থেকে ৭ হাজার গাড়ি তুলে নিলে কমবে এ পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ।

ছাদের সোলার প্যানেলের চেয়ে সমুদ্রের সোলার প্যানেল ৫ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, কারণ সমুদ্রের পানি। ৪৫ হেক্টর বা ১১১ একর এলাকাজুড়ে সমুদ্রে ভাসমান ১০ লাখ ২২ হাজার সোলার প্যানেল থেকে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

সোলার প্যানেলগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন এগুলো ২৫ বছর পর্যন্ত টেকসই থাকে। এ সোলার প্যানেল তত্ত্বাবধানে সার্বক্ষণিক থাকবে ড্রোন। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আরও চারটি ভাসমান সোলার প্যানেল তৈরির কাজ চলছে। সিঙ্গাপুরের তেনগেহ রিজার্ভারে সবচেয়ে বড় এ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি অবস্থিত। এখান থেকে সিঙ্গাপুরের পানি শোধনাগারের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। সিঙ্গাপুর অবশ্য এসব সৌর প্যানেল নিজেরা তৈরি করছে না। এগুলো চীন থেকে আমদানি করা হচ্ছে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম সৌর প্যানেল প্রযুক্তি নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশগুলোর একটি সিঙ্গাপুর। তবে আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এশিয়া মহাদেশে মাথাপিছু কার্বন ডাই–অক্সাইড নিঃসরণে অন্যতম এ রাষ্ট্র। এদিকে নদ-নদী ও স্থলভাগের পরিমাণ কম হওয়ায় সিঙ্গাপুরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদী নেই। শক্তিশালী টার্বাইন ঘোরানোর জন্য বাতাসও অপ্রতুল। আর তাই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরকে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু জমির স্বল্পতাও বিষয়টি কঠিন করে তুলেছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অভিনব এই পথ অবলম্বন করেছে কর্তৃপক্ষ। সিঙ্গাপুরের উপকূল থেকে সাগরের দিকে তাকালে দেখা যাবে, রোদে ঝলমল করে হাজার হাজার সোলার প্যানেল। দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ার হুমকিতে আছে সিঙ্গাপুর।
সমালোচকরা বলছেন, সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি পালনে এখনো পিছিয়ে আছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সরকারের বিস্তৃত সবুজায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এর মধ্যে আছে বৃক্ষরোপণ, জমি ভরাটে বর্জ্যের ব্যবহার কমানো এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে আরও চার্জিং পয়েন্ট তৈরি।

এ ছাড়া সরকারের গ্রহণ করা পদক্ষেপের মধ্যে আছে, সৌরশক্তির ব্যবহার চার গুণ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের মোট শক্তির ২ শতাংশ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা। পরের পাঁচ বছরে এ হার আরও এক শতাংশ বাড়ানো। এতে ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে সাড়ে তিন লাখ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ দিতে পারবে দেশটি।