ঢাকা, বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১২:৩০

জাপান সেকেন্ডে ৩২ কোটি মেগাবিটের গতি অর্জন করেছে

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেটের প্রচলন অনেক বেশি। আমাদের দৈনন্দিন প্রায় প্রতিটি কাজেই ইন্টারনেটের ব্যবহার রয়েছে। তবে এই ইন্টারনেট চালাতে আমাদের প্রায় সময়ই বিভ্রাটে পড়তে হয়। কিন্তু বিশ্বে ইন্টারনেটের গতির গত বিশ্ব রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ গতিতে পৌঁছেছে জাপান। তারপরও সন্তুষ্ট নন জাপানের প্রকৌশলীরা।

এর আগে বিশ্বে ইন্টারনেট সংযোগের গতির রেকর্ড ছিল ১৭৮ টেরাবাইট। যেখানে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির (এনআইসিটি) প্রকৌশলী দল সেকেন্ডে ৩১৯ টেরাবিট গতিতে পৌঁছেছে। যা বিশ্ব ইন্টারনেট সংযোগের গতির রেকর্ডের দিগুণ।

জাপানের প্রকৌশলীরা এক হাজার ৮৫৬ মাইল দূর থেকে ইন্টারনেটের এই গতি ধরে রেখছেন। এমনকি এই গতি উঠানামা ও করেনি।
আমাদের বাংলাদেশে সাধারণ ইন্টারনেটের গতি মেগাবিট হিসেবে প্রচলিত। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি বাইট নয়, বিটে হিসাব করা হয়। জাপানের প্রকৌশলীরা সেকেন্ডে ৩১৯ টেরাবিট গতিতে পৌঁছেছে। তাহলে এই চলুন এই গতি ভেঙে হিসাব করা যাক।
কম্পিউটার সায়েন্স এর ভাষায় এক টেরাবিট সমান এক হাজার গিগাবিট। আবার এক গিগাবিট সমান এক হাজার মেগাবিট। তাহলে হিসেব করলে দেখা যায় এক টেরাবিট সমান ১০ লাখ মেগাবিট। এই হিসেব অনুযায়ী জাপানের প্রকৌশলীরা প্রতি সেকেন্ডে ৩১ কোটি ৯০ লাখ মেগাবিট গতি অর্জন করেছেন।
জাপানের প্রকৌশলীরা চার কোরের অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহার এই উচ্চগতির ইন্টারনেট অর্জন করেছেন। এর সঙ্গে আরও ছিল ফাইবার অ্যাপ্লিফায়ার। এটি লম্বা দূরত্বে ইন্টারনেট সংযোগের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।

তাছাড়া তারা প্রথমে একসঙ্গে ‘এস’, ‘সি’ এবং ‘এল’ ব্যান্ডের সংকেত প্রেরণ (ট্রান্সমিশন) প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেন। বেশি দূরত্বের জন্য সাধারণত সি ও এল ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এবার এই দুই ব্যান্ডের সঙ্গে এস ব্যান্ড যুক্ত করা হয়েছে।
চার কোরের অপটিক্যাল ফাইবার এই ব্যান্ডগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে। ফলে গতির কাজটি সহজে হওয়ার পাশাপাশি খরচও কমে যাবে বলে আশা করছে তারা।
তবে এই গতি পেয়েও থেমে নেই জাপানের প্রকৌশলীরা। তারা আশা করছে এই চেয়েও আরও বেশি গতি অর্জন করা সম্ভব। একই সঙ্গে সমুদ্রের দুপ্রান্ত যুক্ত করার মতো দীর্ঘ ট্রান্সমিশন প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে চান এই প্রকৌশলীরা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস