ঢাকা, শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৯:২৪

কোভিড সনদ জালিয়াতি: ৪ প্রতিষ্ঠান বন্ধ

অর্থের বিনিময়ে বিদেশগামীদের ভুয়া কোভিড সনদ দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর চার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রতিষ্ঠান চারটি হচ্ছে- রাজধানীর পুরানা পল্টনের আল জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাংলামোটরের স্টিমজ হেলথ কেয়ার (বিডি), বিজয় সরণীর সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার এবং মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারের মিরপুর শাখা।

প্রতিষ্ঠান চারটির বিরুদ্ধে বিদেশগামীদের টার্গেট করে দালাল চক্রের মাধ্যমে কোভিড সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৯ জুন) এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা সময় নিউজকে বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যম, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়মের তথ্য পেয়েছি। এসব অভিযোগ যাচাই করে কোভিডের জাল সনদ, নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়া, অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে ৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যার মধ্যে রয়েছে বেসরকারি হাসপাতালের বাইরে বুথ বসিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও বিদেশগামীদের বাসা-বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা ৮ দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজস্ব ভবনের বাইরের কোনো বুথ থেকে বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহ বন্ধ থাকবে, বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা কোনো অবস্থাতেই বাসা-বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না, নমুনা সংগ্রহের সময় মূল পাসপোর্ট যাচাই করতে হবে এবং পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করে নমুনা সংগ্রহের ফরম পূরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না।

এছাড়া বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড সনদ পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যাচাই করা হবে। ৭ দিনের মধ্যে কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ রিপোর্ট আসলে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো বিদেশগামী যাত্রীর কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে কমপক্ষে ৭ দিন পরে কেবলমাত্র সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করবেন এবং কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেই দেশের বাইরে যেতে পারবেন।

কোভিড ১৯ নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পাওয়া গেলে ল্যাব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায়। একই সঙ্গে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানায় অধিদপ্তর।