ঢাকা, শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৯:৪২

‘অলৌকিক’ মশায় ডেঙ্গু সংক্রমণ কমেছে ৭৭ শতাংশ

এক অভিনব পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ৭৭ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যে মশার মাধ্যমে জ্বরটি ছড়ায়, সেটির ওপর একধরনের ‘কারসাজি’ করে এই সফলতা এসেছে।

বিজ্ঞানীদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, এডিস মশাকে একধরনের ‘অলৌকিক’ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সংক্রমিত করে ডেঙ্গু প্রকোপের সক্ষমতাকে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাগিয়াকার্তা শহরে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে ডেঙ্গু ভাইরাস উৎখাতে মানুষের মধ্যে আশার আলো বেড়েছে।

বৈশ্বিক মশক কর্মসূচি জানিয়েছে, দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধে সফলতা নিয়ে আসতে পারে এই পদ্ধতি।

৫০ বছর আগে খুব অল্পসংখ্যক মানুষেই ডেঙ্গুর কথা শুনেছেন। কিন্তু বর্তমানে এটি ধীরগতির মহামারিতে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি নাটকীয়ভাবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে।

১৯৭০ সালে ৯টি দেশ মারাত্মক ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছিল। আর বর্তমানে এক বছরে চল্লিশ কোটি পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণ দেখা গেছে। এটিকে ‘হাড়-ভাঙা জ্বর’ বলা হয়। কারণ এতে মাংসপেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা হয়।

এই মহামারির বিস্ফোরণে হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়ে যায়। নতুন পরীক্ষায় ‘ওলবাচিয়া’ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মশাকে ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষক ডা. কাটি অ্যান্ডার্স বলেন, এই পরীক্ষা প্রাকৃতিকভাবেই অলৌকিক।

মশার কোনো ক্ষতি করে না ওলবাচিয়া। বরং মশার শরীরের সেই অংশেই এই ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে যেখানে সাধারণত ডেঙ্গু ভাইরাস থাকে। এরপর সংস্থানের জন্য প্রতিযোগিতায় নামে ওলবাচিয়া। ফলে ডেঙ্গু ভাইরাসের পুনরুৎপাদন কঠিন হয়ে পড়ে।

ওলবাচিয়া সংক্রমিত মশা কাউকে কামড় দিলেও সংক্রমণের শঙ্কা কমে আসে। পরীক্ষার জন্য ওলবাচিয়া সংক্রমিত ৫০ লাখ মশার ডিম ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতি দুই সপ্তাহে শহরের পানির পাত্রে এসব ডিম রেখে দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষায় সংক্রমিত মশার সংখ্যা বাড়তে ৯ মাস পর্যন্ত সময় লেগে গেছে।

জাগিয়াকার্তা শহরকে ২৪টি অঞ্চলে ভাগ করে তাদের অর্ধেকে এই মশা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষার ফল নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত সংখ্যা ৭৭ শতাংশ কমে এসেছে। আর ৮৬ শতাংশ আক্রান্তের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারই প্রয়োজন পড়েনি।

ডা. অ্যান্ডার্স বলেন, খুবই চমৎকার ফল এসেছে। যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এটি অভাবনীয় সফলতা।