ঢাকা, শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৯:২২

টঙ্গীতে ‘কিশোর গ্যাং’ বিরোধী অভিযানে নেমেছে পুলিশ

রাকিব হাসনাত::

গাজীপুরের টঙ্গীতে কিশোর গ্যাং বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (০৮ জুন) টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়েছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। পরে আটককৃতদের কাউন্সিলিং শেষে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ জুন টঙ্গীর ব্যাপক আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘ডি কোম্পানি’র ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিনসহ চার রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি, দুটি রামদা, একটি ছুরি ও তিনটি লোহার রড। মঙ্গলবার গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক রাজিব চৌধুরী বাপ্পিকে তিন দিন ও বাকিদের একদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সম্প্রতি টঙ্গীতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্যাং কালচার ও উঠতি বয়সী ছেলেদের মাঝে ক্ষমতা বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপের সঙ্গে অন্য গ্রুপের মারামারি করা বহুল আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গ্যাং সদস্যরা এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করার জন্য উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে দল বেধে ঘুরে বেড়ানো, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়ে মারামারি ও খুন করে। এছাড়াও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য একই এলাকায় অন্যান্য গ্রুপের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে। আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে কিশোররা মারামারি করাসহ অনেক সময় খুন করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

ওসি বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যারের নির্দেশে আমরা কিশোর গ্যাং বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছি। অপরাধের সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাচ্ছি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। আর যারা অযথা রাস্তার মোড়ে, গলিতে, ফুসকার দোকানে আড্ডা দিচ্ছে, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পথচারীদের উত্ত্যক্ত করছে তাদের থানায় এনে কাউন্সিলিং শেষে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) ইলতুৎ মিশ বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার’ থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজন সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা। আমরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যেসব কিশোরদের থানায় নিয়ে আসছি, তাদের সচেতনতামূলক কাউন্সিলিং করছি। এছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।