ঢাকা, শনিবার, ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৮:৩৭

‘আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী’ লিখে কিশোরীর আত্মহত্যা

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় চিরকুট লিখে মিনারা আক্তার (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। চিরকুটে রনি নামের একজনকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে।

নিহত মিনারা আক্তার উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের নলদিগি গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

রোববার (১৬ মে) দুপুরের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মিনারা আক্তার। এর আগে ওইদিন সকালে সে বিষপান করে।

সোমবার (১৭ মে) সকালে নিহত মিনারার ভাই রেজাউল বাদী হয়ে রনি নামের একজনকে আসামি করে তারাকান্দা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার একটি মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের।

তিনি জানান, লাশ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

ওসি আরও বলেন, মৃত্যুর পর মিনারার হাতে লিখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ওই চিরকুটে তার মৃত্যুর জন্য ‘রনি দায়ী ও রনি আমাকে স্ত্রীর মতো ব্যবহার করেছে’ লেখা রয়েছে।

রনি মিয়া (২১) একই উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের বালিজানা গ্রামের বাসিন্দা। তার সঙ্গে মিনারার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছেন মিনারার পরিবারের লোকজন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রনি গোপনে তার বোনের সঙ্গে দেখা করতে এসে ধরা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা মিনারাকে বিভিন্ন অপবাদ দেন ও গালি-গালাজ করেন। এই সুযোগে সেখান থেকে পালিয়ে যান রনি। পরে মিনারা রনি মিয়ার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন। পরে স্থানীয়রা মিনারাকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। রোববার সকালে মিনারা ফের রনির বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয় এবং সেখানেই বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে ওই অবস্থায় তারাকান্দা-ধোবাউড়া সড়কের পাশে বালিজানা নয়াপড়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে চলে যায় রনির পরিবার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সে মারা যায়।