ঢাকা, শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৭:২৮
বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম:
বাংলাদেশকে বিনামূল্যে করোনার আরও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১১৩৪৫, বহিষ্কার ২১ এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না আদিত্যের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে সেনাসদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান ওমিক্রন: বিদেশ ফেরতদের বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব আগামীকাল থেকে শুরু আগামীকাল ৩০তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস প্রতিবন্ধীদের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রপতির আহ্বান প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অগ্রসেনা হিসেবে কাজ করে যাবেন : প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসে সারা দেশের মানুষকে শপথ পঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে বিনামূল্যে করোনার আরও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১১৩৪৫, বহিষ্কার ২১ এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না আদিত্যের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনে সেনাসদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান ওমিক্রন: বিদেশ ফেরতদের বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব আগামীকাল থেকে শুরু আগামীকাল ৩০তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস প্রতিবন্ধীদের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রপতির আহ্বান প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অগ্রসেনা হিসেবে কাজ করে যাবেন : প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসে সারা দেশের মানুষকে শপথ পঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জুমার দিনে ‘অজু-গোসল’ সম্পর্কে কী বলেছেন বিশ্বনবি?


জুমার নামাজের জন্য অজু করা যথেষ্ট। আর গোসল করা উত্তম। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে বিষয়গুলো সুষ্পষ্ট করেছেন। হাদিসের আলোকে উভয়টিই ভালো ও উত্তম সুন্নাতি আমল।

তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিন গোসলের ব্যাপারে খুব বেশি তাগিদ দিয়েছেন। জুমার দিন গোসল করা অতি উত্তম কাজ। হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত-

হজরত সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন অজু করল; সে যথেষ্ট করলো ও ভালো করলো। আর যে গোসর করলো সে অধিক উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ)

হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, ‘সুন্দরভাবে অজু করে যে ব্যক্তি জুমার নামাজে যায়; মনোযোগের সঙ্গে খুতবাহ শুনে এবং চুপ থাকে; তার এক জুমা থেকে অপর জুমার মধ্যের (৭দিন) এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনসহ ১০ দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি।’ (মুসলিম)

জুমার দিনের অজু

যে ব্যক্তি জুমার দিন অজু করলো; সে সুন্নাত পালন করলো এবং সুন্নাত আমল পূর্ণ করলো এবং ভালো করল। কারণ সুন্নাত পালনের আমলটিই তার ভালো কাজ। এটি তার জন্য প্রসংশা।

জুমার দিনের গোসল

আর যে ব্যক্তি জুমার নামাজের জন্য গোসল করলো; সে অধিক উত্তম কাজ করলো। সুন্নাত আমল পূর্ণ করলো। কারণ যে ব্যক্তি জুমার দিন অজুর সঙ্গে সঙ্গে গোসল করলো, তা শুধু অজু অপেক্ষা গোসলের মতো অধিক উত্তম সুন্নাত আমল করলো। প্রসিদ্ধ চার ইমামসহ অধিকাংশ আলেম জুমার দিন অজুর সঙ্গে সঙ্গে গোসলের এ পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছেন।

গোসলের গুরুত্ব

তবে জুমার দিন অজুর চেয়ে গোসল করাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা প্রমাণিত-

১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ জুমার নামাজে আসলে সে যেন গোসল করে।’ (বুখারি, মুসলিম)

২. জুমার দিন গোসলের তাৎপর্য

হজরত ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু জুমার দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রথম যুগের একজন মুহাজির সহাবা (জুমা পড়তে মসজিদে) এলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে ডেকে বললেন, এখন সময় কত? তিনি বললেন, আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই ঘরে ফিরে আসতে পারিনি। এমন সময় আজান শুনে শুধু অজু করে নিলাম। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, শুধু অজুই? অথচ আপনি জানেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোসলের নির্দেশ দিতেন।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

৩. জুমার দিন গোসল করা ওয়াজিব

হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিনে প্রত্যেক সাবালকের জন্য গোসল করা ওয়াজিব।’ (বুখারি)

৪. জুমার দিন গোসলের মর্যাদা

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাত (নাপাকি থেকে পবিত্রতার) গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং নামাজের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কোরবানি করলো। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কোরবানি করলো। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করলো। চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করলো সে যেন একটি মুরগি কোরবানি করলো। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করলো সে যেন একটি ডিম কোরবানি করলো। পরে ইমাম যখন খুতবাহ দেওয়ার জন্য বের হন তখন ফেরেশতারা (ইমামের খুতবাহ) উপদেশ শোনার জন্য (মসজিদে) উপস্থিত হয়ে থাকে।‘ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমার নামাজের জন্য গোসল করে এ দিনের উত্তম আমলে নিজেদের সম্পৃক্ত করা। একান্ত কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে অজু করেও জুমা পড়ায় দোষ নেই। তবে জুমার জন্য গোসল করাকে আবশ্যক বলেছেন বিশ্বনবি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন অজুসহ গোসল করে নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ ও আগে আগে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।