ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ২:৫৩
বাংলা বাংলা English English

রিকশা চালক ও পুলিশকে পেটালেন চিকিৎসক!

গাজীপুরের টঙ্গীতে হাসপাতালের চিকিৎসক ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ রানা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই সাইফুল ইসলামের মধ্যে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের ডিউটি শেষে ডা. মাসুদ রানা নগরীর আরিচপুর জামাই বাজার এলাকায় তার বাসায় ফিরছিলেন। এসময় হাসপাতাল ফটকের সামনে একটি ব্যাটারিচালিত অটের রিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগে তার। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. মাসুদ রানা রিকশা চালক নাসিরকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে অটো চালককে ফেলে দিয়ে ডা. মাসুদ ওই অটোচালকের মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে রাখে।

এই দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলের কাছে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম এগিয়ে আসলে ডা. মাসুদ রানা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যকেও কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন উত্তেজিত চিকিৎসক মাসুদ। মুহূর্তে খবরটি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ট্রাফিক পুলিশ ও টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

অটো-চালক নাসির বলেন, আমার অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডা. মাসুদ রানা পড়ে যায়। পরে আমি তার কাছে ক্ষমা চাইলেও তিনি আমাকে জোরপূর্বক গেঞ্জির কলার চেপে ধরে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তিনি আমাকে বালির মধ্যে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরলে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।

এদিকে ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি বাচ্চা ছেলেকে নির্মমভাবে পেটানো দেখে আমি এগিয়ে গিয়ে ডা. মাসুদ রানাকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেন। তার উপর্যুপরি কিল-ঘুষিতে আমার ইউনিফর্ম ছিড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে ডা. মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি রিকশা চালককে মারধর করা অবস্থায় হঠাৎ পুলিশ সদস্য সাইফুল এসে আমাকে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাভেদ মাসুদ জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। যেহেতু উভয়ে সরকারি কর্মচারী, তাই সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।