শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:২৯

সিলেটে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজত সরকারবিরোধী বা সরকারদলীয় সংগঠন নয়

 সিলেট প্রতিনিধি।

যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের (সা.) শানে কটূক্তি করে তাদের কবর রচনা করতেই হেফাজতের জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি বলেন, যারা ইসলামের শত্রু, রাসূলের দুশমন, নাস্তিক-মুরতাদদের কবর রচনার জন্য হেফাজতে ইসলামের জন্ম। হেফাজত সরকারবিরোধী সংগঠন নয়, আবার সরকারদলীয় সংগঠনও নয়।

বিশ্বের ২শ’ কোটি মুসলমানের ভালোবাসার প্রতীক রাসূলকে (সা.) নিয়ে ফ্রান্সের সরকার যেভাবে কটূক্তি করেছে তাতে মুসলমানদের অন্তর কেঁদে উঠেছে, আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

শনিবার বিকালে ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবীর (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম সিলেটের উদ্যোগে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলামকে সরকারের বন্ধু উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম আপনার শত্রু না। আমরা আপনার বন্ধু। কিন্তু আপনার কাঁধের উপর ঘাপটি মেরে বসে থাকা নাস্তিক-মুরতাদরাই আপনার শত্রু। আমি মনে করি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও কাদিয়ানীদের মুসলিম বলে মনে করেন না। শুধু ব্যক্তিগতভাবে কাদিয়ানীদের কাফের মনে করলে হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবেও কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করতে হবে।

৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণায় কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। কাদিয়ানীদের সাংবিধানিকভাবে কাফের ঘোষণা না করার কারণে তারা মক্কা-মদিনা যেতে পারে। এতে মক্কা-মদিনার পবিত্রতা নষ্ট হয়। তাই আমি ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছি কাদিয়ানীদের সাংবিধানিকভাবে কাফের ঘোষণা করতে হবে।

হেফাজত আমীর বলেন, হিন্দুরাও কাফের। তাহলে এখন আপনাদের প্রশ্ন আসতে পারে- হিন্দুদের কাফের ঘোষণার কথা বলছি না কেন। আমরা হিন্দুদের কাফের ঘোষণার দাবি করছি না, কারণ তারা মুসলমানদের বেশ ধারণ করে না। কিন্তু কাদিয়ানীরা মুসলমানদের বেশ ধারণ করে। তাই তারা ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু।

তাই আমাদের দাবি হল- কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করা হোক। এরপর তারা এ দেশে সংখ্যালঘু হিসেবেই থাকুক। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। হিন্দুরাও থাকছে; আমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর প্রফেসর ড. আহমদ আবদুল কাদের, উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী রশিদুর রহমান ফারুক বর্নভী, উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকীব প্রমুখ।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন আল্লামা মুহিবুল হক গাছবাড়ি হুজুর। ‘গাছবাড়ি হুজুর’ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এবং সিলেট জেলা শাখার সভাপতি।

সমাবেশের আগের রাতে শুক্রবার এক ভিডিওবার্তায় আল্লামা মুহিবুল হক গাছবাড়ি হুজুর বলেন, আমি বিগত ৯ নভেম্বর এদারা ভবনে ২১ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেটের ব্যানারে ফ্রান্সে মহানবীর (সা.) অবমাননার প্রতিবাদে সমাবেশের ডাক দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি লক্ষ্য করছি এ সমাবেশে বর্তমানে হেফাজতের নাম ব্যবহার ছাড়া আর কিছু নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাকে না জানিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তাই আমি শনিবারের সমাবেশে অংশগ্রহণ করব না। শনিবারের সমাবেশে অংশ না নিলেও তিনি হেফাজতের সঙ্গে থেকে হেফাজতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমুন্নত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।