সোমবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৩৫

বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরি: আরসিবিসি ব্যাংককে আদালতে তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন আরসিবিসিকে ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরের আঞ্চলিক আদালতে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ব্যাংকটির বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পরই এ বিষয়ে আরও তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আলোচনার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়।

এ সংবাদ প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে কমেছে আরসিবিসির শেয়ারের দাম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানি লন্ডারিংয়ে ক্ষতিপূরণের দাবি রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও। এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল আরসিবিসির মাকাতি শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো, প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ফিলরেম, কয়েকজন ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ আরও অনেকে। ঘটনার ৩ বছর পর ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ।

মামলায় ফিলিপিন্সের ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠান, দেশটির ১২ জন নাগরিক, ৩ জন চীনা নাগরিকসহ মোট ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। ২ কোটি কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায়, যা পরে ফেরত পাওয়া যায়।

ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরের আরসিবিসি ব্যাংকের শাখার চারটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেখান থেকে দ্রুত অর্থ উত্তোলন করার পর ফিলিপিন্সের বিভিন্ন ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর কাছে চলে যায়। দ্রুতই ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে চলে যাওয়া এ অর্থের মধ্যে মাত্র দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে প্রতারণার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার দায় প্রমাণিত হওয়ায় ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) এর সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করে ফিলিপিন্সের আঞ্চলিক আদালত।

এ অবৈধ অর্থ পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে ২০১৬ সালেই আরসিবিসিকে ১ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।আরসিবিসির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং যে শাখাটি থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল, সেখানকার পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান।