শনিবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৪৪

ফেসবুকে তরুণীর আত্মহত্যার স্ট্যাটাসে বাসায় হাজির পুলিশ

ঢাকার রূপনগরের এক তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, তিনি আত্মহত্যা করতে চান। তরুণীর সেই স্ট্যাটাস তারই সাবেক এক সহকর্মী দেখে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ এ ফোন করেন। ফোন পেয়েই ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে তার বাসায় ছুটে যায় পুলিশ। পুলিশ তরুণীকে বুঝিয়ে তারই এক বান্ধবীর বাসায় রেখে আসে এবং কথা বলে মেয়েটির স্বামীর সঙ্গেও। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকের।

পুলিশের পরিদর্শক ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এর ফোকালপারসন আবদুস সাত্তার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য কথা জানিয়েছেন।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ একজন ব্যক্তি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ফোন করে জানান, তিনি একজন সাংবাদিক, একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কাজ করেন। তার সাবেক সহকর্মী এক তরুণী, যিনি একই টিভি চ্যানেলে সংবাদকর্মীর কাজ করতেন, তিনি ফেসবুকে একাধিক স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন, বন্ধুদের তিনি বিদায় জানিয়েছেন এবং তার লাশ নেওয়ার জন্য মিরপুরের রূপনগর যাওয়ার জন্যও বলেছেন। ওই ব্যক্তি জানান, তার সাবেক সহকর্মী বর্তমানে রূপনগর আবাসিক এলাকায় তার স্বামীর বাসায় আছেন। এ সময় তিনি তার সহকর্মীকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কলারের সঙ্গে রূপনগর থানার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে রূপনগর থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।

পরে রূপনগর থানার এসআই এনামুল ৯৯৯-কে ফোনে জানান, তিনি ঘটনাস্থলে আছেন, তরুণী তার জিম্মায় আছেন, তিনি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। এরপর ৯৯৯ থেকে তরুণীর সঙ্গে ফোনে কথা বলা হলে কান্নায় ভেঙে পড়ে তরুণী জানান, তিনি বিকেলে ঝিনাইদহ থেকে রূপনগরে তার স্বামীর বাসায় এসে পৌঁছান। কিন্তু বাসায় ঢুকতে গিয়ে দেখেন, তার স্বামী, যিনি একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে ঢাকার বাইরে আছেন। তার স্বামী বাসার দারোয়ানকে বলে দিয়েছেন, তাকে যেন বাসায় ঢুকতে দেওয়া না হয়। তরুণী জানান, কয়েক শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসে তিনি বাসায় ঢুকতে পারছেন না, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন।

তিনি আরও জানান, তিনি তার স্বামীর কারণে মিডিয়ার চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং তার স্বামী তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যার চিন্তা করেছেন এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

৯৯৯ তরুণীকে তার প্রয়োজনীয় সব আইনি সহায়তার আশ্বাস দেয় এবং আত্মহত্যার মতো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। পরে এসআই এনামুল ৯৯৯-কে জানান, তিনি তরুণীকে রূপনগরে তার এক বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। তরুণীর স্বামীর সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলেছেন এবং তিনি (তরুণীর স্বামী) তাকে জানিয়েছেন ঢাকায় ফিরে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে নেবেন।