শনিবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:৫২

টিকার নিবন্ধন অ্যাপ তৈরি হচ্ছে বিনামূল্যে, দাবি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

করোনা টিকার নিবন্ধন অ্যাপ তৈরিতে ৯০ কোটি টাকা খরচ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি ভুয়া। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এত টাকা তো দূরের কথা অ্যাপটি বিনামূল্যে করে দেবে আইসিটি মন্ত্রণালয় বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আর তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম জানান, একটি অ্যাপ তৈরিতে এত টাকা খরচ হওয়ার কথা নয়। বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি পরিষ্কার করার পরামর্শ তার।

চলতি মাসের ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে আসছে করোনার টিকা। সেই টিকা কিভাবে প্রয়োগ করা হবে তার একটি গাইড লাইনও ঠিক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে গ্রহীতাকে।

একটি গণমাধ্যমের খবর বলছে, সেই অ্যাপ তৈরিতেই নাকি সরকারের কোষাগার থেকে যাচ্ছে ৯০ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস পরিচালক ডা. মিজানুর এ বিষয়ে বলেন, বিনামূল্যে অ্যাপটি বানিয়ে দিচ্ছে আইসিটি মন্ত্রণালয়। ৯০ কোটি টাকার বিষয়টি অপ্রপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি আরও বলেন, ভ্যাকসিনের জন্য যে অ্যাপটা তৈরি করা হবে এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইসিটি মন্ত্রণালয় করে দেবে। ৯০ কোটি টাকার যে অভিযোগটা আসছে সেটা আসলে সঠিক না।

যদিও অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তার ধারণা, হয়তো অ্যাপটির এক বছরের ব্যবস্থাপনা খরচ বাবদ এ টাকা ধরা হয়ে থাকতে পারে। বলেন, এটা আসলে এক বছরের ব্যবস্থাপনা খরচ হতে পারে।

করোনার ভাইরাস সংক্রমণের আপডেট তথ্য দিয়ে এর আগেও ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাপ বানিয়েছে সরকার। সেই অ্যাপকেই আধুনিকায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রযুক্তিবিদি সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, করোনা টিকার অ্যাপটি মানসম্মত না হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, এনআইডির ওপর ভিত্তি করেও কিন্তু ভ্যাকসিনিয়েশন প্রক্রিয়াটা করাটা সম্ভব। পাশাপাশি বা এক্ষেত্রে শিশুদের এনআইডি নাই, সেই ক্ষেত্রে ওইসব শিশুর বাবা-মার এনআইডির সূত্র ধরে এ ধরনের ভ্যাকসিনিয়েশন প্রক্রিয়াটা করাটা সম্ভব। এটাকে আসলে অ্যাপের সঙ্গে ডাটাবেজের মাধ্যমে যুক্ত করে তোলা সম্ভব।

এরইমধ্যে অ্যাপটি বানানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের সপ্তাহখানেক আগে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।